মানবসেবায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, ব্রিটেনের রাজার আমন্ত্রণে বাকিংহাম প্যালেসে ব্যারিস্টার তুষার
মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্রিটেনের রাজপরিবারের আমন্ত্রণে মর্যাদাপূর্ণ গার্ডেন পার্টিতে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের সন্তান ব্যারিস্টার কামরুল হাসান তুষার। ঐতিহাসিক বাকিংহাম প্যালেসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে তার উপস্থিতি বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।ব্যারিস্টার কামরুল হাসান তুষার সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকার সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিএনসিসি প্লাটুনের সাবেক ক্যাডেট। করোনাভাইরাস মহামারির কঠিন সময়ে যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ রেডক্রসের হয়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য তিনি এ বিশেষ সম্মান লাভ করেন।কোভিডের দুঃসময়ে মানুষের পাশে ছিলেন তুষারবিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি যখন ভয়াবহ রূপ নেয়, তখন বহু মানুষ স্বাস্থ্য সংকট, খাদ্য সংকট এবং মানসিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। সেই কঠিন সময়ে বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত হন ব্যারিস্টার তুষার।জানা গেছে, ব্রিটিশ রেডক্রসের সঙ্গে কাজ করে তিনি অসহায়, প্রবীণ ও সংকটাপন্ন মানুষের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ করেন। বিশেষ করে কোভিড আক্রান্ত পরিবার, একাকী প্রবীণ ব্যক্তি এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সহায়তায় তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়।মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন, যা স্থানীয় কমিউনিটিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তার এই অবদান শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেই নয়, ব্রিটিশ সমাজেও প্রশংসা কুড়ায়।[TECHTARANGA-POST:1258]বাকিংহাম প্যালেসের গার্ডেন পার্টি কেন বিশেষব্রিটিশ রাজপরিবারের আয়োজিত গার্ডেন পার্টি যুক্তরাজ্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সামাজিক আয়োজন হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তি, সমাজসেবক, স্বেচ্ছাসেবী ও মানবকল্যাণে যুক্ত মানুষদের সম্মান জানাতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।ঐতিহ্যবাহী বাকিংহাম প্যালেসে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতি বিশেষ সম্মানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। সাধারণত সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিরাই এ আমন্ত্রণ পেয়ে থাকেন।ব্যারিস্টার তুষারের অংশগ্রহণকে অনেকেই বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি ইতিবাচক প্রতিনিধিত্ব হিসেবে দেখছেন।শিক্ষা জীবন থেকে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাসরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে শিক্ষাজীবনের সময় থেকেই ব্যারিস্টার তুষার নেতৃত্ব ও শৃঙ্খলাভিত্তিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিএনসিসি প্লাটুনের সাবেক ক্যাডেট হিসেবে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় অংশ নেন।সহপাঠী ও পরিচিতজনদের মতে, ছাত্রজীবন থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তার মধ্যে ছিল। পরবর্তীতে পেশাগত জীবনেও সেই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ধরে রেখেছেন তিনি।প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অনুপ্রেরণাবিদেশের মাটিতে মানবিক কাজের স্বীকৃতি পাওয়া অনেকের কাছেই গর্বের বিষয়। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে এটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন কমিউনিটির সদস্যরা।সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিসরে এমন স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকেও উজ্জ্বল করে। মানবিক কাজ, স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা যে বিশ্বব্যাপী মূল্যায়িত হয়, ব্যারিস্টার তুষারের এই সম্মান তারই একটি উদাহরণ।মানবিক কাজের গুরুত্ব আবারও আলোচনায়কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বকে শিখিয়েছে—সংকটের সময়ে মানবিক সহায়তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবক, সমাজকর্মী এবং মানবিক সংগঠনের কর্মীরা সেই সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যে ভূমিকা রেখেছেন, তা আজও স্মরণ করা হয়।[TECHTARANGA-POST:1253]ব্যারিস্টার কামরুল হাসান তুষারের এ স্বীকৃতি সেই মানবিক প্রচেষ্টাকেই নতুন করে সামনে এনেছে। অনেকেই মনে করছেন, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি মানবিক কাজেও আরও বেশি মানুষকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।ভবিষ্যতেও মানবসেবামূলক কাজে থাকার প্রত্যাশাব্যারিস্টার তুষারের ঘনিষ্ঠজনদের আশা, ভবিষ্যতেও তিনি মানবকল্যাণমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন এবং তরুণদের অনুপ্রাণিত করবেন। তার এ অর্জন প্রমাণ করে, নিঃস্বার্থ মানবসেবা একসময় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও এনে দিতে পারে।
বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার সাফল্যকে দেশের জন্য সম্মানের বলে উল্লেখ করেছেন।