দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

প্রিয়া বাপাটের বিস্ফোরক দাবি: শুটিংয়ে সহ-অভিনেতার আচরণে পড়েছিলেন চরম অস্বস্তিতে

শুটিংয়ে সহ-অভিনেতার আচরণে অস্বস্তি, বহু বছর পর মুখ খুললেন প্রিয়া বাপাটরূপালি পর্দার ঝলমলে জগতের আড়ালে কখনো কখনো এমন কিছু অভিজ্ঞতা লুকিয়ে থাকে, যা শিল্পীদের জন্য হয়ে ওঠে মানসিক চাপের কারণ। জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়া বাপাট সম্প্রতি এমনই এক ঘটনার কথা প্রকাশ করেছেন, যা তাঁর অভিনয়জীবনের শুরুর দিকে ঘটেছিল। একটি সিনেমার শুটিং চলাকালে সহ-অভিনেতার আচরণ তাঁকে বারবার অস্বস্তিতে ফেলেছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:1595]সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়া জানান, একটি ছবিতে কাজ করার সময় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল, যা তাঁকে দীর্ঘদিন অস্বস্তিতে রেখেছিল। যদিও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির নাম তিনি প্রকাশ করেননি, তবুও তাঁর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বিনোদন অঙ্গনে।দৃশ্য নিয়ে ছিল প্রশ্ন, আপত্তি ছিল নাপ্রিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিটিতে একটি চুম্বনের দৃশ্য ছিল। শুরু থেকেই তিনি দৃশ্যটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পরিচালকের কাছে জানতে চেয়েছিলেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল, এটি কি গল্পের স্বাভাবিক চাহিদা, নাকি অপ্রয়োজনীয়ভাবে যুক্ত করা হয়েছে।তিনি স্পষ্ট করেন, ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করা নিয়ে তাঁর কোনো আপত্তি ছিল না। তবে একজন অভিনেত্রী হিসেবে তিনি নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন যে দৃশ্যটি গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং চরিত্রের প্রয়োজনে ব্যবহার করা হচ্ছে।পরিচালকের ব্যাখ্যা শোনার পর তিনি পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে দৃশ্যটিতে অভিনয়ে সম্মতি দেন।শুটিংয়ের সময় বদলে যায় পরিস্থিতিঅভিনেত্রীর দাবি, শুটিং শুরু হওয়ার পর বাস্তব পরিস্থিতি তাঁর প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি। পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা এবং মহড়ার বাইরে গিয়ে সহ-অভিনেতা অতিরিক্ত কিছু করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।বিশেষ করে একটি গানের দৃশ্য ধারণের সময় ওই অভিনেতা একাধিকবার তাঁকে চুম্বনের চেষ্টা করেছিলেন বলে দাবি করেন প্রিয়া। বিষয়টি তাঁর জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল।তিনি বলেন, সেই মুহূর্তে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত, তা বুঝে উঠতে পারছিলেন না। শুটিং সেটে উপস্থিত থেকেও তিনি নিজেকে অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে আবিষ্কার করেন।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অভিনেতার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও সম্ভব হয়নি।ক্যামেরার বাইরেও চলছিল ব্যক্তিগত আগ্রহ?প্রিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি শুধু শুটিং সেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁর দাবি, শুটিংয়ের বাইরেও ওই সহ-অভিনেতা তাঁর প্রতি ব্যক্তিগত আগ্রহ দেখাতে শুরু করেন।[TECHTARANGA-POST:1560]অভিনেত্রী জানান, তিনি বারবার স্পষ্টভাবে অনাগ্রহ প্রকাশ করলেও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। এতে তিনি আরও বিব্রত ও মানসিকভাবে চাপে পড়েন।যদিও পুরো ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন তিনি, তবুও অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি। ফলে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের জল্পনা তৈরি হলেও নির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ আনার সুযোগ নেই।বিনোদন জগতে কেন বারবার উঠে আসে এমন অভিযোগ?বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্র ও বিনোদন অঙ্গনে কর্মক্ষেত্রে আচরণ, ব্যক্তিগত সীমারেখা এবং সম্মতির বিষয়টি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিনয়ের মতো পেশায় অনেক সময় চরিত্রের প্রয়োজনে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ধারণ করতে হয়। কিন্তু সেই ক্ষেত্রেও স্পষ্ট সম্মতি, পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা এবং পেশাদার আচরণ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।গত কয়েক বছরে বিভিন্ন দেশে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাছ থেকে শুটিং সেটে অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব ঘটনার পর অনেক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এখন ‘ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর’ নিয়োগ করছে, যাতে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ধারণের সময় শিল্পীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘনের অনুভূতি একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকেই তখন তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ করতে পারেন না, কারণ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া বা পেশাগত সম্পর্ক বজায় রাখার চাপ কাজ করে।নীরবতা ভাঙার গুরুত্বপ্রিয়া বাপাটের এই অভিজ্ঞতা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, কর্মক্ষেত্রে সম্মতি ও পেশাদার আচরণের বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। যদিও তাঁর অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক[TECHTARANGA-POST:1581] কোনো তদন্ত বা প্রতিক্রিয়ার তথ্য সামনে আসেনি, তবুও এ ধরনের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আসা শিল্পীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করছেবিনোদন জগতের অনেকেই মনে করেন, এমন ঘটনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হলে ভবিষ্যতে শিল্পীদের জন্য আরও নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা সহজ হবে।

প্রিয়া বাপাটের বিস্ফোরক দাবি: শুটিংয়ে সহ-অভিনেতার আচরণে পড়েছিলেন চরম অস্বস্তিতে