কলকাতার রাজাবাজারে জুমার নামাজ ঘিরে উত্তেজনা, পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী Kolkata-এর রাজাবাজার এলাকায় জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার ওপর নামাজ আদায়কে ঘিরে একদল মুসল্লির সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা হলে এলাকায় সাময়িক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।ঘटनাটি ঘটেছে শুক্রবার দুপুরে রাজাবাজার ক্রসিং এলাকায়। স্থানীয় সূত্র ও ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নামাজের সময় মুসল্লিদের একটি অংশ সড়কের ওপর জামাত আয়োজনের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় এবং কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।[TECHTARANGA-POST:1309]রাস্তার ওপর নামাজকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডাপ্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, জুমার নামাজের সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজাবাজার এলাকায় জড়ো হন। অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের একটি অংশ মূল সড়কের ওপর নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নেন। পুলিশ সদস্যরা তখন রাস্তা ফাঁকা রাখতে অনুরোধ জানালে কয়েকজন মুসল্লি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে কিছু মানুষ উত্তেজিত আচরণ করেন। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, কয়েকজন মুসল্লি পুলিশের উদ্দেশে বলেন, তারা নতুন নিয়ম সম্পর্কে কিছু জানেন না এবং আগের মতোই রাস্তার ওপর নামাজ পড়বেন।এ সময় এলাকায় উচ্চস্বরে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়। পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়।সরকার পরিবর্তনের পর নতুন নির্দেশনা নিয়ে বিভ্রান্তি?প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাজ্যে প্রশাসনিক নীতিমালার কিছু পরিবর্তন এবং জনসমাগম সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছিল। স্থানীয় সূত্রের দাবি, অনেক মুসল্লি আগে যেভাবে রাস্তার অংশ ব্যবহার করে নামাজ আদায় করতেন, এবারও একইভাবে করতে চেয়েছিলেন।তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনবহুল এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছিল বলে জানা গেছে। সেই প্রেক্ষাপটেই পুলিশ রাস্তার ওপর জমায়েত সীমিত করার চেষ্টা করে।যদিও এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।সাধারণ মানুষের ভোগান্তির অভিযোগরাজাবাজার এলাকা কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, সড়কের ওপর বড় জমায়েত হলে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হয়।[TECHTARANGA-POST:1274]একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, শুক্রবার দুপুরে এলাকায় যানজট তৈরি হয়েছিল। অনেক গাড়ি দীর্ঘ সময় আটকে ছিল এবং পথচারীদের চলাচলেও সমস্যা হয়।তবে অন্যদিকে কয়েকজন মুসল্লির দাবি, পর্যাপ্ত জায়গার অভাবের কারণেই অনেকে খোলা স্থানে নামাজ আদায়ের চেষ্টা করেন। তারা বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবেই করতে চেয়েছিলেন বলে জানান।এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারিঘটনার পর পুরো রাজাবাজার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য স্থানীয় কমিউনিটি নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করা হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় আয়োজন, জনসমাগম এবং নগর ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে জনবহুল শহরগুলোতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনদুর্ভোগ কমানোও প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।তারা বলছেন, সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে সংলাপ ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কারণ সামান্য ভুল বোঝাবুঝিও দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নিতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।[TECHTARANGA-POST:1250]
বর্তমানে রাজাবাজার এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে আছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।b