দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

অন্যের ফুয়েল কার্ড নিয়ে লাইনে দাঁড়ানো যুবককে থাপ্পড়ের অভিযোগ, কালীগঞ্জ ইউএনওকে ঘিরে বিতর্ক

বুধবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের চাপারহাট বাজার এলাকার লুবানা ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই সময় তেল নিতে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন ছিল। লাইনে দাঁড়াতে না পেরে চাপারহাট কলেজের এক অসুস্থ সহকারী অধ্যাপক গ্যারেজ মালিক প্রদীপ কুমারের সহায়তা নেন। পরে প্রদীপ তার গ্যারেজের কর্মচারী নদীকে ওই শিক্ষকের ফুয়েল কার্ড ও ৩০০ টাকা দিয়ে তেল আনতে পাঠান।গ্যারেজ কর্মচারী নদী লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়ার অপেক্ষায় থাকাকালে ইউএনও শামীমা আক্তার জাহান সেখানে উপস্থিত হন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নদীর হাতে থাকা ফুয়েল কার্ড দেখে ছবির সঙ্গে মিল না পাওয়ায় কোনো কিছু জিজ্ঞাসা না করেই তাকে কয়েকটি চপেটাঘাত করেন। পরে দায়িত্বরত পুলিশের মাধ্যমে তাকে আটক করে পুলিশ ভ্যানে তোলার নির্দেশ দেন।ঘটনার পর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়। তখন জানা যায়, অসুস্থ কলেজ শিক্ষকের অনুরোধে গ্যারেজ কর্মচারী ওই কার্ড ব্যবহার করে তেল নিতে এসেছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান।আহত যুবক নদী বলেন, তিনি গ্যারেজে কাজ করেন এবং মালিকের নির্দেশেই ওই শিক্ষকের গাড়ি ও কার্ড নিয়ে তেল আনতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো কথা না শুনেই তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, তিনি কোনো অপরাধ করেননি এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএনও শামীমা আক্তার জাহান। তিনি বলেন, তিনি কাউকে মারেননি। বরং নিয়ম না মানায় মোটরসাইকেলের চাবি জব্দ করেছিলেন। পরে অভিভাবকরা এলে চাবি ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।এদিকে এই ঘটনার আগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) উপজেলার ভুল্যারহাট এলাকার মোজাহার ফিলিং স্টেশনে ইউএনওকে লাঠি হাতে তদারকি করতে দেখা যায়—এমন একটি ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তার আচরণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ফলে টানা দুই দিনের ঘটনায় তাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করেছেন, কালীগঞ্জ উপজেলায় দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন হাট-বাজার ইজারা ও উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বণ্টন নিয়েও তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর একটি প্রকল্পে ভুয়া শিক্ষাকেন্দ্র দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি মামলা চলমান রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।বাংলাদেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মকর্তা। উপজেলার আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে তাদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে জনগণের সঙ্গে তাদের আচরণও প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে—এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান জানান, ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা এখনো চলছে। অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অন্যের ফুয়েল কার্ড নিয়ে লাইনে দাঁড়ানো যুবককে থাপ্পড়ের অভিযোগ, কালীগঞ্জ ইউএনওকে ঘিরে বিতর্ক