দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

চুয়াডাঙ্গায় ২১ হাজার কেজি ভুট্টাভর্তি ট্রাক নিয়ে চালক লাপাত্তা, থানায় মামলা

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে ২১ হাজার ৬৯০ কেজি ভুট্টাভর্তি ট্রাক নিয়ে চালক লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুট্টার বাজারমূল্য প্রায় ৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। মালিকপক্ষের দাবি, চালক ট্রাকটি মালিকের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে চলে গেছেন। পরে ভুট্টা গন্তব্যে না পৌঁছানোয় থানায় মামলা করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ভুট্টার মালিকপক্ষের প্রতিনিধি বাদী হয়ে দর্শনা থানায় মামলাটি করেন। মামলায় চালক মো. মহিবুল ইসলামকে প্রধান আসামি এবং ট্রাকের মালিক ও সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট মো. রফিকুল ইসলামকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, ট্রাকচালক ও মালিকসহ দুজনকে অভিযুক্ত করে একটি এজাহার পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পুলিশ ও কাজী ফার্মসের দর্শনা প্রতিনিধি ইকবাল জাহিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানির নির্দেশে গত এক মাস ধরে দর্শনা এলাকায় ভুট্টা কেনা হচ্ছিল। এসব ভুট্টা বরিশালের ভোলা ঘোষঘাটে কাজী ফার্মসে পাঠানোর জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়।গত ১০ সেপ্টেম্বর দর্শনার সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট মো. রফিকুল ইসলামের পরিবহন প্রতিষ্ঠানের একটি ট্রাক ভাড়া করা হয়। ট্রাকটির নম্বর যশোর-ট-১১-৩৫৩৪।পরে ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে দর্শনার রামনগর গোডাউন থেকে ট্রাকচালক মো. মহিবুল ইসলামের কাছে ২১ হাজার ৬৯০ কেজি ভুট্টা তুলে দেওয়া হয়। এ ভুট্টার বাজারমূল্য ৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।ওই রাতেই চালক কোনো হেলপার ছাড়াই ট্রাকটি নিয়ে বরিশালের ভোলা কাজী ফার্মসের উদ্দেশে রওনা হন বলে জানানো হয়েছে।ভুট্টার মালিকপক্ষের প্রতিনিধি ইকবাল জাহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, বরিশাল থেকে জানানো হয়, তিন দিনেও ভুট্টাভর্তি ট্রাকটি সেখানে পৌঁছায়নি।এরপর চালকের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁকে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে মালিকপক্ষ।ঘটনার পর ভুট্টাভর্তি ট্রাকটির অবস্থান নিয়ে খোঁজ শুরু হয়। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর ট্রাকের মালিক মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মালিকপক্ষের লোকজন।তখন রফিকুল ইসলাম জানান, চালক মহিবুল ইসলাম ১৪ সেপ্টেম্বর ফিরে এসে ট্রাক ও ভাড়ার টাকা তাঁর কাছে বুঝিয়ে দিয়ে চলে গেছেন।ট্রাকের মালিক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাড়ার বিষয়ে চালকের সঙ্গে কথা হয়েছিল, তাঁর সঙ্গে নয়।চালক পরিবারসহ বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।তবে ট্রাকের মালিকের কাছে ট্রাক বুঝিয়ে দেওয়ার পর ভুট্টার অবস্থান কী হয়েছিল, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ভুট্টা কোথায় আছে, তা তদন্তের বিষয়।কাজী ফার্মসের দর্শনা প্রতিনিধি ইকবাল জাহিদ জানান, ভাড়া চুক্তির সময় ট্রাকের মালিক ও চালক—দুজনের সঙ্গেই কথা বলে ভাড়া চূড়ান্ত করা হয়েছিল।এ ঘটনায় ইকবাল কবির বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে দর্শনা থানায় মামলা করেন। মামলায় চালক মহিবুল ইসলামকে প্রধান এবং ট্রাকের মালিক রফিকুল ইসলামকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে।দর্শনা সি অ্যান্ড এফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাজী খন্দকার শওকত আলী বলেন, তিনি এ ধরনের একটি খবর শুনেছেন। মালামাল ছাড়াই ট্রাক জমা দিয়ে চালক পালিয়ে গেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।দর্শনা থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম শুক্রবার দুপুরে জানান, ট্রাকচালক ও মালিকসহ দুজনকে অভিযুক্ত করে একটি এজাহার পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গুরুত্বপূর্ণ দিকভুট্টার পরিমাণ: ২১ হাজার ৬৯০ কেজি।বাজারমূল্য: প্রায় ৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।ট্রাকের নম্বর: যশোর-ট-১১-৩৫৩৪।গন্তব্য: বরিশালের ভোলা ঘোষঘাটে কাজী ফার্মস।মামলা: ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে দর্শনা থানায়।কৃষিপণ্য পরিবহনের সময় পণ্য কোথায় যাচ্ছে, কার কাছে হস্তান্তর হচ্ছে এবং চালান গন্তব্যে পৌঁছেছে কি না—এসব বিষয় ব্যবসা ও সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একটি চালান সময়মতো গন্তব্যে না পৌঁছালে ব্যবসায়িক ক্ষতি, পণ্যের নিরাপত্তা এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।এই ঘটনায় প্রায় ৯ লাখ টাকা মূল্যের ভুট্টা গন্তব্যে না পৌঁছানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে ভুট্টা চুরি হয়েছে কি না, কোথায় আছে বা কার দায় রয়েছে—এসব এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।এই ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ট্রাকের মালিকের কাছে ট্রাক ফিরে আসার তথ্য পাওয়া গেলেও ভুট্টার অবস্থান পরিষ্কার নয়। অর্থাৎ পরিবহন ব্যবস্থায় শুধু গাড়ির অবস্থান নয়, পণ্য হস্তান্তরের রেকর্ডও গুরুত্বপূর্ণ।ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় চালানের ওজন, লোডিংয়ের সময়, চালকের পরিচয়, গন্তব্যে গ্রহণের স্বাক্ষর এবং ট্রাকের চলাচলের তথ্য সংরক্ষণ থাকলে তদন্তে বিষয়টি পরিষ্কার করা সহজ হতে পারে।কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে পণ্য ওঠানোর সময় ওজন মাপা, চালানের কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া, চালক ও গাড়ির তথ্য সংরক্ষণ এবং গন্তব্যে পণ্য গ্রহণের প্রমাণ রাখা জরুরি।একই সঙ্গে পরিবহন মালিক, পণ্য মালিক ও চালকের মধ্যে লিখিত চুক্তি থাকলে দায়িত্ব নির্ধারণ সহজ হয়। তবে কোনো পক্ষকে দায়ী করার আগে পুলিশি তদন্ত ও প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।কৃষিপণ্য বা ব্যবসায়িক মালামাল পরিবহনের সময় চালান কোথায় আছে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট সবাই ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তাই পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে চালান ও হস্তান্তরের রেকর্ড রাখা জরুরি।তবে মামলায় আসামি হওয়া মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চালক বা ট্রাকের মালিকের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়া উচিত নয়।

চুয়াডাঙ্গায় ২১ হাজার কেজি ভুট্টাভর্তি ট্রাক নিয়ে চালক লাপাত্তা, থানায় মামলা