কক্সবাজারে পুলিশের জোড়া অভিযান: অপহৃত শিশু উদ্ধার, মানবপাচার মামলার আলোচিত আসামি গ্রেফতার
কক্সবাজারে পৃথক দুই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। এক অভিযানে অপহরণের শিকার চার বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য অভিযানে মানবপাচার মামলার এক আলোচিত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুই ঘটনাই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া শিশুর পরিবারের কাছে অপহরণকারীরা কয়েক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। অন্যদিকে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মানবপাচার মামলার অভিযোগ রয়েছে।৩ লাখ টাকার মুক্তিপণ দাবির অভিযোগকক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চার বছর বয়সী শিশু আরভি হোসেন অপহরণের শিকার হওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করা হয়।তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে মহেশখালীর ডেইঙ্গাপাড়া এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রং বাহার (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:1587]পুলিশের দাবি, অপহরণের পর শিশুটির পরিবারের কাছে প্রায় ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। তবে দ্রুত অভিযানের কারণে শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।শিশুর নিরাপদ উদ্ধারে স্বস্তি পরিবারেশিশু আরভির উদ্ধারের খবরে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, শিশু অপহরণের মতো ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ফলে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করায় পুলিশ প্রশংসা পাচ্ছে।তবে অপহরণের পেছনে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।মানবপাচার মামলার আসামি গ্রেফতারঅন্যদিকে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের কমুনিয়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ছৈয়দুল হক ওরফে ‘লেংগা’কে গ্রেফতার করেছে রামু থানা পুলিশ।পুলিশ জানিয়েছে, তিনি টেকনাফের একটি আলোচিত মানবপাচার মামলার আসামি। দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন তিনি।অভিযানের সময় তার বাড়ি থেকে মানবপাচার সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র এবং সিসিটিভি সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।মানবপাচার রোধে বড় চ্যালেঞ্জকক্সবাজার ও টেকনাফ উপকূলীয় অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই মানবপাচার চক্রের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে চক্রের সদস্যরা গ্রেফতার হলেও নতুন নতুন কৌশলে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ উঠে আসছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবপাচার শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার সঙ্গেও জড়িত। অনেক মানুষ বিদেশে কাজের প্রলোভন বা দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় প্রতারণার শিকার হন।তারা মনে করেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।তদন্ত অব্যাহতপুলিশ জানিয়েছে, অপহরণ ও মানবপাচার—দুই ঘটনাতেই আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং উভয় মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিশু অপহরণ, মানবপাচার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।