আরব সাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’: ১৬০ কিমি বেগে আঘাতের শঙ্কা, উপকূলে সতর্কতা জোরদার
আরব সাগরে সৃষ্ট একটি নিম্নচাপ দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিপর্যয়’। আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন, এটি আরও শক্তিশালী হয়ে ভারতের পশ্চিম উপকূলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি আগামী কয়েক দিনে আরও শক্তি সঞ্চয় করতে পারে এবং এর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে। দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে ‘বিপর্যয়’আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ১০ জুন পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব ক্রমাগত বাড়তে পারে। এই সময়ের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে, যা এটিকে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত করতে পারে।আবহাওয়াবিদদের মতে, আরব সাগরের উষ্ণ পানির কারণে ঝড়টি দ্রুত শক্তি অর্জন করছে। ফলে এর গতিপথ ও তীব্রতা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। যেসব এলাকায় প্রভাব পড়তে পারেপ্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’-এর প্রভাবে ভারতের পশ্চিম উপকূলীয় কয়েকটি রাজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
গুজরাট
মহারাষ্ট্র
কর্ণাটক
এই অঞ্চলগুলোতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত, দমকা হাওয়া এবং সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী এক বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে বলেন,
“প্রতিবার ঘূর্ণিঝড়ের সময় আমাদের এলাকায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এবারও প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার চেষ্টা করছি।”[TECHTARANGA-POST:1041] জেলে ও নৌযান চলাচলে সতর্কতাঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠতে পারে বলে জেলেদের গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজ ও ট্রলারগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢেউয়ের উচ্চতা বেড়ে গেলে উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।কীভাবে তৈরি হয় ঘূর্ণিঝড়?ঘূর্ণিঝড় মূলত সমুদ্রের উষ্ণ পানি থেকে শক্তি সংগ্রহ করে তৈরি হয়। যখন সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, তখন পানি বাষ্প হয়ে উপরে উঠে এবং নিম্নচাপ সৃষ্টি করে। এই নিম্নচাপ ঘুরতে ঘুরতে শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়।আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর—এই দুই জলভাগে মে থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতা বেশি থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব ঝড়ের তীব্রতা বাড়ছে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্ভাব্য ঝুঁকি ও প্রস্তুতিআবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, ঘূর্ণিঝড়টি যদি উপকূলের কাছাকাছি আসে, তাহলে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে—
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা
গাছপালা উপড়ে পড়া
ঘরবাড়ির ক্ষতি
নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়া
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে আগে থেকেই আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, উদ্ধার সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।ভারতের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সামগ্রিক বিশ্লেষণবিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’-এর গতিপথ ও শক্তি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও স্পষ্ট হবে। যদি এটি শক্তিশালী অবস্থায় স্থলভাগে আঘাত হানে, তাহলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।তবে আগাম সতর্কতা এবং যথাযথ প্রস্তুতি থাকলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’ দ্রুত শক্তি বাড়াচ্ছে, যা উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
এখন নজর থাকবে ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও তীব্রতার ওপর। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।