দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

গুলশানের আলোচিত শিশু নির্যাতন মামলায় অধ্যাপক মঈনুদ্দিন মুক্ত, পরিবারে উদ্বেগ

রাজধানীর গুলশানে ১২ বছর বয়সী এক স্কুলপড়ুয়া কিশোরকে যৌন পীড়নের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জি এম এ মঈনুদ্দিন চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। গ্রেপ্তারের মাত্র দুই দিনের মাথায় তার জামিন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালত শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে শাহজাদপুর এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হালিম। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে জামিন শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন। পরে নির্ধারিত দিনে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহমেদ জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশান থানাধীন শাহজাদপুর এলাকার একটি বাসায় ভুক্তভোগী কিশোরের পরিবারের পাশের ফ্ল্যাটে থাকতেন অভিযুক্ত শিক্ষক মঈনুদ্দিন। গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বাসার প্লে-গ্রাউন্ডে খেলার সময় কৌশলে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে যান তিনি। এরপর বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটির শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এরপর থেকেই শিশুটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। সে ঘুমের মধ্যে কেঁদে ওঠা, রাতে ভয় পেয়ে চিৎকার করা এবং আতঙ্কিত হলে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যায় ভুগতে থাকে বলে পরিবার জানিয়েছে।পরে শিশুটি বিষয়টি পরিবারকে জানালে চলতি বছরের ২৬ মে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। চিকিৎসক তখন শিশুটিকে ভয় না দেখানোর পরামর্শ দেন এবং মানসিকভাবে সহায়তা দেওয়ার কথা বলেন।এরপর গত ১৭ মার্চ দুপুরে প্লে-গ্রাউন্ডে শিশুটি ও তার বাবাকে দেখে অভিযুক্ত শিক্ষক আবারও ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে শিশুটি আরও বেশি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে শিশুটির বাবা গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) গুলশান থানায় মামলা করেন। সেই মামলার ভিত্তিতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, বাংলাদেশে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অনেক সময় পরিবার সামাজিক কারণে মামলা করতে দেরি করে। ফলে অনেক ঘটনাই প্রকাশ্যে আসে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সচেতনতা বাড়ায় এসব ঘটনায় মামলা করার প্রবণতা কিছুটা বেড়েছে বলে তারা মনে করছে।আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। এসব মামলায় তদন্তের প্রতিটি ধাপ গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন, যাতে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পায় এবং একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়াও সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়। রাজধানীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশানে এর আগেও শিশু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের ঘটনা সামনে এসেছে। ফলে এ ধরনের অভিযোগ সামনে এলে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়। এদিকে অভিযুক্তের জামিন হওয়ায় মামলার পরবর্তী তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর সবার। ভুক্তভোগী পরিবারের প্রত্যাশা—ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

গুলশানের আলোচিত শিশু নির্যাতন মামলায় অধ্যাপক মঈনুদ্দিন মুক্ত, পরিবারে উদ্বেগ