দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

নারী আসনে এনসিপির মনোনয়ন জটিলতা: আপিলের পথে দল, যা বললেন আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর সংরক্ষিত নারী আসনের দুই প্রার্থীর মনোনয়ন ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। একজনের মনোনয়ন সময় পেরিয়ে জমা দেওয়ায় বাতিল হয়েছে, আরেকজনেরটি আটকে গেছে আইনি কারণে। তবে দল বলছে, এখনো আপিল ও রিট করার সুযোগ রয়েছে এবং তারা বিষয়টি আইনি পথে সমাধানের চেষ্টা করছে।বুধবার (২২ এপ্রিল) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক ইমরান হোসেনকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সেখানে তিনি দলের দুই নারী নেত্রীর মনোনয়ন সংক্রান্ত অবস্থান পরিষ্কার করেন।আসিফ মাহমুদ বলেন, আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় দল বিকল্প প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে যেহেতু একজনের মনোনয়ন স্থগিত হয়েছে এবং অন্যজনেরটি বাতিল হয়েছে, তাই এখনো আইনি সুযোগ রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আপিলের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হতে পারে।তিনি আরও জানান, দলের আইনজীবীরা ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। তার ভাষায়, অতীতের জাতীয় নির্বাচনে এমন উদাহরণ রয়েছে যেখানে বিদেশি নাগরিকত্ব বা ঋণ খেলাপির মতো বড় অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তখন নির্বাচন কমিশনও বিষয়টি নিয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছিল। সে তুলনায় বর্তমান সমস্যাটি খুব জটিল নয় বলে মনে করছে দল।নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত। কিন্তু এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম তার মনোনয়নপত্র জমা দেন নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পরে। এ কারণে নিয়ম অনুযায়ী তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।অন্যদিকে, দলের আরেক নারী নেতা মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র জমা হলেও তা আপাতত ঝুলে আছে আইনি জটিলতায়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ অনুযায়ী সরকারি বা রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরি থেকে অবসর বা পদত্যাগের তিন বছর পূর্ণ না হলে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করার যোগ্যতা থাকে না।তথ্য অনুযায়ী, মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে চাকরিতে যোগ দেন এবং গত বছরের ডিসেম্বরে চাকরি ছাড়েন। অর্থাৎ চাকরি ছাড়ার পর এখনো তিন বছর পূর্ণ হয়নি। এ কারণে তার মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। সংসদে নির্বাচিত দলগুলোর আসন সংখ্যার ভিত্তিতে দলগুলো মনোনয়ন দেয় এবং পরে সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে এসব আসনে প্রতিনিধিদের নির্বাচন করেন। তাই এই আসনগুলোতে মনোনয়ন পাওয়া দলগুলোর জন্য রাজনৈতিকভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।এদিকে একই দিনে চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে দেয়ালে লেখা একটি গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উভয় পক্ষের কর্মীদের হাতে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র দেখা যায় এবং দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন।এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা খুব জরুরি। ছাত্ররাজনীতি যেন সহিংসতার বদলে মেধা ও যুক্তির প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যায়—এটাই প্রত্যাশা হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ক্যাম্পাসে বড় দুই রাজনৈতিক ধারার ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়ে আছে, যা শিক্ষার পরিবেশের জন্য ভালো নয়।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন নিয়ে জটিলতা নতুন কিছু নয়। অতীতেও সময়সীমা, কাগজপত্র বা আইনি বাধার কারণে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা সমস্যায় পড়েছেন। তাই এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলগুলো সাধারণত বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করে রাখে। সব মিলিয়ে এনসিপির দুই নারী প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি এখন আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। দলটি আপিলের মাধ্যমে সমাধানের আশায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নারী আসনে এনসিপির মনোনয়ন জটিলতা: আপিলের পথে দল, যা বললেন আসিফ মাহমুদ