চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে উত্তেজনা, এনসিপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে চালক-মালিকদের হাতাহাতি
চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে উত্তেজনা, সংঘর্ষে আতঙ্ক রোগী-স্বজনদেরচট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবার প্রকাশ্য উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। ভাড়া নৈরাজ্যের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স চালক ও মালিকদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকালে হাসপাতালের পূর্ব গেট এলাকায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।[TECHTARANGA-POST:1586]প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে চালক-মালিকদের একটি অংশ এনসিপি নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দেয় বলে দাবি করা হয়েছে। এ সময় হাসপাতাল এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং কিছু সময়ের জন্য বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।দীর্ঘদিনের অভিযোগ কি এবার সামনে এল?বিকেলে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব আরিফ মঈনুউদ্দিন অভিযোগ করেন, চমেক হাসপাতালে একটি প্রভাবশালী অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট বহু বছর ধরে সক্রিয় রয়েছে।তাঁর দাবি, রোগী ও তাঁদের স্বজনদের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দুই থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেশি অর্থ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এমনকি হাসপাতাল এলাকা থেকে বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্স রোগী বা মরদেহ পরিবহন করতে গেলেও নানা বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।আরিফ মঈনুউদ্দিন বলেন, সাধারণ মানুষ নিজের পছন্দমতো অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে পারছেন না। একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর সমাধান দেখা যায়নি।তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বিষয়টি জানানো হলেও কাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অ্যাম্বুলেন্স মালিক বা সংশ্লিষ্ট সমিতির কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়েই সংঘর্ষ?সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতা টিপু সুলতান দাবি করেন, গত এক সপ্তাহ ধরে তাঁদের সংগঠনের পক্ষ থেকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া সংক্রান্ত অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল।তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার সকালে এক রোগীর অভিযোগ পাওয়ার পর তাঁরা অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনাকারী সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে যান। এ সময় অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং একপর্যায়ে শারীরিক হামলার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:1545]টিপু সুলতান আরও অভিযোগ করেন, শুধু সকালে নয়, পরে তাঁদের আরও দুই কর্মীর ওপর হামলা হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।পুলিশ কী বলছে?ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে।পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। ফলে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সোমবার সিটি করপোরেশনের মেয়র ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এনসিপি নেতা-কর্মীদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।কেন বারবার উঠছে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার অভিযোগ?দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ঘিরে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। জরুরি মুহূর্তে রোগী কিংবা মৃত ব্যক্তির স্বজনেরা সাধারণত দরকষাকষির অবস্থায় থাকেন না। সেই অসহায় পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসে।বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালকেন্দ্রিক পরিবহন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা এবং কার্যকর তদারকি না থাকলে এমন অভিযোগ তৈরি হওয়ার সুযোগ থেকে যায়। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়ে।[TECHTARANGA-POST:1528]চমেক হাসপাতালের সাম্প্রতিক ঘটনাও সেই বৃহত্তর বাস্তবতার অংশ কিনা, তা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা রোগীসেবার পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও স্পষ্ট হওয়া জরুরি।এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনা ও ভাড়া নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেদিকে এখন নজর সংশ্লিষ্ট সবার।