বাঞ্ছারামপুরে অস্ত্র ও গুলিসহ যুবক গ্রেফতার, পালিয়েছে দুই সহযোগী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে গভীর রাতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি দেশীয় তৈরি এলজি বন্দুক, দুই রাউন্ড কার্তুজ ও একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলসহ এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানের সময় তার সঙ্গে থাকা আরও দুই ব্যক্তি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ২টা ১৫ মিনিটের দিকে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার তেজখালী ইউনিয়নের আকানগর এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে। সেখানে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের একপর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।[TECHTARANGA-POST:1552]গভীর রাতের অভিযানে যা উদ্ধার হলোঅভিযানের সময় সিদ্দিকুর রহমান (২২) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে একটি সচল দেশীয় তৈরি এলজি বন্দুক, দুইটি সাদা রঙের কার্তুজ এবং একটি কালো রঙের নম্বরবিহীন সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি ব্যবহারের উপযোগী ছিল। পাশাপাশি মোটরসাইকেলটির কোনো বৈধ নম্বরপ্লেট না থাকায় সেটিও জব্দ করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অস্ত্র, গুলি ও মোটরসাইকেল জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়।পালিয়ে গেল দুই সহযোগীপুলিশ জানায়, অভিযানের সময় আটক যুবকের সঙ্গে আরও দুইজন ছিলেন। তারা হলেন অমিত (২৩) ও লিমন (১৯)। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ। পলাতকদের গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।গ্রেফতারকৃত যুবকের পরিচয়গ্রেফতার হওয়া সিদ্দিকুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বরাইল গ্রামের আতিকুর রহমানের ছেলে। বর্তমানে তিনি নবীনগরের নূরজাহানপুর গুচ্ছগ্রামে বসবাস করছেন।পুলিশ তার অতীত কর্মকাণ্ড ও সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে অস্ত্রটির উৎস এবং এটি কী উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।পুলিশের বক্তব্যবাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াছিন মিয়া বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ অস্ত্র, গুলি ও একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলসহ একজনকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা পুলিশ সবসময় তৎপর রয়েছে।”তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলির বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।কেন উদ্বেগ বাড়ছে?স্থানীয়দের মতে, গ্রামাঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ। বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সামনে এলেও অস্ত্রের উৎস ও সরবরাহ চক্র পুরোপুরি বন্ধ করা এখনও চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।বিশ্লেষকরা মনে করেন, অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার সামাজিক অস্থিরতা, সংঘাত এবং অপরাধ প্রবণতা বাড়িয়ে দিতে পারে। এ কারণে শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, অস্ত্র সরবরাহের নেপথ্যে থাকা চক্র শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক নজরদারিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।এদিকে সাম্প্রতিক এই অভিযানের পর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন অনেক বাসিন্দা। তাদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।