জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষ হতেই অসুস্থ সহযোদ্ধার খোঁজ নিতে হাসপাতালে ছুটে গেলেন নাহিদ ইসলাম। রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সারজিস আলম-এর পাশে দাঁড়াতে তার এই উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সংসদের নির্ধারিত কার্যক্রম শেষ করার পর কোনো বিলম্ব না করে তিনি সরাসরি শংকর এলাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে যান। সেখানে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে সারজিস আলমের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অস্ত্রোপচারের পর সারজিস বর্তমানে পর্যবেক্ষণে আছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন নাহিদ ইসলাম। সেখানে তিনি সহযোদ্ধার উদ্দেশ্যে লেখেন, “দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠো, কমরেড। আমাদের প্রার্থনা সব সময় তোমার সাথে আছে।” তার এই বার্তা খুব দ্রুতই সমর্থক ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই একইভাবে সারজিসের সুস্থতা কামনা করেন।
জানা গেছে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)-এর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সারজিস আলম। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও কাজ করছেন। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা অনুভব করলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। এনসিপির মিডিয়া সেলের সদস্য ইয়াসির আরাফাত জানান, বিকেল পৌনে ৩টার দিকে ব্যথা শুরু হলে পরিস্থিতি গুরুতর মনে হওয়ায় দ্রুত ভর্তি করানো হয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার মূত্রনালীতে পাথর ধরা পড়ে। পরে সন্ধ্যার দিকে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
রাজনৈতিকভাবে নাহিদ ইসলাম ও সারজিস আলমের সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ বলে জানা যায়। বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলন এবং পরবর্তীতে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়ায় তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন। সেই সময় তাদের সক্রিয় ভূমিকা তরুণ রাজনীতিতে নতুন একটি ধারা তৈরি করেছে বলে অনেকেই মনে করেন। ফলে সারজিসের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক অঙ্গনে সহমর্মিতা দেখা যায়।
পটভূমি হিসেবে বলা যায়, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সাম্প্রতিক সময়ে দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আলোচনায় এসেছে। নতুন ধারার রাজনীতি, স্বচ্ছতা এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলটি নিজেদের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছে। এই দলের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে সারজিস আলমের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে মূত্রনালীর পাথর একটি সাধারণ কিন্তু অনেক সময় তীব্র যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা। দ্রুত চিকিৎসা না করলে এটি জটিল আকার নিতে পারে। তাই সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া এবং দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়াকে চিকিৎসকরা সঠিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
সব মিলিয়ে, সহযোদ্ধার অসুস্থতায় নাহিদ ইসলামের দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যাওয়া মানবিক ও রাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্ব বহন করে। এটি শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের দিকটিই তুলে ধরে না, বরং দলীয় সংহতি ও সহমর্মিতার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। এখন সবার প্রত্যাশা, দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন সারজিস আলম।
বিষয় : অসুস্থ হাসপাতালে নাহিদ ইসলাম

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষ হতেই অসুস্থ সহযোদ্ধার খোঁজ নিতে হাসপাতালে ছুটে গেলেন নাহিদ ইসলাম। রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সারজিস আলম-এর পাশে দাঁড়াতে তার এই উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সংসদের নির্ধারিত কার্যক্রম শেষ করার পর কোনো বিলম্ব না করে তিনি সরাসরি শংকর এলাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে যান। সেখানে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে সারজিস আলমের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অস্ত্রোপচারের পর সারজিস বর্তমানে পর্যবেক্ষণে আছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন নাহিদ ইসলাম। সেখানে তিনি সহযোদ্ধার উদ্দেশ্যে লেখেন, “দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠো, কমরেড। আমাদের প্রার্থনা সব সময় তোমার সাথে আছে।” তার এই বার্তা খুব দ্রুতই সমর্থক ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই একইভাবে সারজিসের সুস্থতা কামনা করেন।
জানা গেছে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)-এর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সারজিস আলম। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও কাজ করছেন। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা অনুভব করলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। এনসিপির মিডিয়া সেলের সদস্য ইয়াসির আরাফাত জানান, বিকেল পৌনে ৩টার দিকে ব্যথা শুরু হলে পরিস্থিতি গুরুতর মনে হওয়ায় দ্রুত ভর্তি করানো হয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার মূত্রনালীতে পাথর ধরা পড়ে। পরে সন্ধ্যার দিকে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
রাজনৈতিকভাবে নাহিদ ইসলাম ও সারজিস আলমের সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ বলে জানা যায়। বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলন এবং পরবর্তীতে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়ায় তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন। সেই সময় তাদের সক্রিয় ভূমিকা তরুণ রাজনীতিতে নতুন একটি ধারা তৈরি করেছে বলে অনেকেই মনে করেন। ফলে সারজিসের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক অঙ্গনে সহমর্মিতা দেখা যায়।
পটভূমি হিসেবে বলা যায়, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সাম্প্রতিক সময়ে দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আলোচনায় এসেছে। নতুন ধারার রাজনীতি, স্বচ্ছতা এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলটি নিজেদের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছে। এই দলের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে সারজিস আলমের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে মূত্রনালীর পাথর একটি সাধারণ কিন্তু অনেক সময় তীব্র যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা। দ্রুত চিকিৎসা না করলে এটি জটিল আকার নিতে পারে। তাই সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া এবং দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়াকে চিকিৎসকরা সঠিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
সব মিলিয়ে, সহযোদ্ধার অসুস্থতায় নাহিদ ইসলামের দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যাওয়া মানবিক ও রাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্ব বহন করে। এটি শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের দিকটিই তুলে ধরে না, বরং দলীয় সংহতি ও সহমর্মিতার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। এখন সবার প্রত্যাশা, দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন সারজিস আলম।

আপনার মতামত লিখুন