দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

কালবৈশাখী ঝড়ে নয়ানগরে মর্মান্তিক মৃত্যু, মা ও দুই মেয়ের প্রাণহানি

কালবৈশাখী ঝড়ে নয়ানগরে মর্মান্তিক মৃত্যু, মা ও দুই মেয়ের প্রাণহানি

ঢাকাসহ ৫ জেলায় কালবৈশাখীর সতর্কতা, ঝড়-বৃষ্টিতে বাড়তে পারে দুর্ভোগ

নওগাঁয় বাসশ্রমিক-অটোচালক দ্বন্দ্বে যান চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

যশোরসহ ১০ জেলায় ভোক্তা অভিযানে ১৬ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা, আদায় ১.২৫ লাখ টাকা

গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মিলল সাহেব আলীর লাশ, তদন্তে পুলিশ

কুমিল্লা পলিটেকনিকে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, উত্তেজনায় আহত অন্তত ১০

কিস্তির টাকার চাপ, অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর হামলার অভিযোগ কলাপাড়ায়

নিখোঁজ বৃষ্টি, নিহত লিমন: তদন্তে আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথা জানাল সরকার

ঢাকাসহ ৫ জেলায় কালবৈশাখীর সতর্কতা, ঝড়-বৃষ্টিতে বাড়তে পারে দুর্ভোগ

ঢাকাসহ ৫ জেলায় কালবৈশাখীর সতর্কতা, ঝড়-বৃষ্টিতে বাড়তে পারে দুর্ভোগ
-ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের পাঁচটি বিভাগে কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কায় সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাত এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে, যা জনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই ঝড়ের গতি ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বা তারও বেশি হতে পারে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ শক্তিশালী বলে ধরা হয়।

বিশেষ করে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে এই ধরনের ঝড়ের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এর সঙ্গে থাকতে পারে বজ্রপাত, যা গ্রামাঞ্চলে খোলা মাঠে কাজ করা মানুষদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, যা ফসলের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এপ্রিল-মে মাসে এই ধরনের কালবৈশাখী ঝড় বাংলাদেশে খুবই স্বাভাবিক একটি ঘটনা। গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়, যার ফলেই হঠাৎ করে এই ঝড়ের সৃষ্টি হয়। সাধারণত দিনের তাপমাত্রা বেশি থাকলে সন্ধ্যার দিকে এই ঝড় বেশি দেখা যায়।

এর আগে গত কয়েক বছরেও একই সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়া, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং ঘরবাড়ির ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলে এর প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যায়। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে আগাম সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মূল কাজ হচ্ছে দেশের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে জনগণকে আগাম সতর্ক করা। তাদের এই সতর্কবার্তা অনেক সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করে। তাই এই ধরনের বার্তাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এদিকে ঝড়ের সময় সাধারণ মানুষকে কিছু সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেমন—বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থাকা, বড় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া, নদী বা জলাশয়ের কাছে না যাওয়া এবং ঝড়ের সময় ঘরের ভেতরে নিরাপদে থাকা।

কৃষকদের জন্যও সতর্কতা রয়েছে। ঝড়ের আগে ফসল দ্রুত ঘরে তোলার চেষ্টা করা এবং গবাদি পশুকে নিরাপদ স্থানে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ শিলাবৃষ্টি হলে তা সরাসরি ফসলের ক্ষতি করতে পারে।

সব মিলিয়ে, আগামী দুই দিন দেশের বেশ কিছু এলাকায় আবহাওয়া অস্থির থাকতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের না হওয়া এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করাই হবে সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

শেষ পর্যন্ত বলা যায়, কালবৈশাখী ঝড় আমাদের দেশের একটি পরিচিত প্রাকৃতিক ঘটনা হলেও এর প্রভাব অনেক সময় ভয়াবহ হতে পারে। তাই সচেতনতা ও প্রস্তুতিই পারে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনতে।

বিষয় : ঢাকাসহ কালবৈশাখীর -বৃষ্টিতে

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬


ঢাকাসহ ৫ জেলায় কালবৈশাখীর সতর্কতা, ঝড়-বৃষ্টিতে বাড়তে পারে দুর্ভোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের পাঁচটি বিভাগে কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কায় সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাত এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে, যা জনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই ঝড়ের গতি ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বা তারও বেশি হতে পারে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ শক্তিশালী বলে ধরা হয়।

বিশেষ করে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে এই ধরনের ঝড়ের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এর সঙ্গে থাকতে পারে বজ্রপাত, যা গ্রামাঞ্চলে খোলা মাঠে কাজ করা মানুষদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, যা ফসলের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এপ্রিল-মে মাসে এই ধরনের কালবৈশাখী ঝড় বাংলাদেশে খুবই স্বাভাবিক একটি ঘটনা। গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়, যার ফলেই হঠাৎ করে এই ঝড়ের সৃষ্টি হয়। সাধারণত দিনের তাপমাত্রা বেশি থাকলে সন্ধ্যার দিকে এই ঝড় বেশি দেখা যায়।

এর আগে গত কয়েক বছরেও একই সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়া, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং ঘরবাড়ির ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলে এর প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যায়। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে আগাম সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মূল কাজ হচ্ছে দেশের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে জনগণকে আগাম সতর্ক করা। তাদের এই সতর্কবার্তা অনেক সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করে। তাই এই ধরনের বার্তাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এদিকে ঝড়ের সময় সাধারণ মানুষকে কিছু সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেমন—বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থাকা, বড় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া, নদী বা জলাশয়ের কাছে না যাওয়া এবং ঝড়ের সময় ঘরের ভেতরে নিরাপদে থাকা।

কৃষকদের জন্যও সতর্কতা রয়েছে। ঝড়ের আগে ফসল দ্রুত ঘরে তোলার চেষ্টা করা এবং গবাদি পশুকে নিরাপদ স্থানে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ শিলাবৃষ্টি হলে তা সরাসরি ফসলের ক্ষতি করতে পারে।

সব মিলিয়ে, আগামী দুই দিন দেশের বেশ কিছু এলাকায় আবহাওয়া অস্থির থাকতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের না হওয়া এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করাই হবে সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

শেষ পর্যন্ত বলা যায়, কালবৈশাখী ঝড় আমাদের দেশের একটি পরিচিত প্রাকৃতিক ঘটনা হলেও এর প্রভাব অনেক সময় ভয়াবহ হতে পারে। তাই সচেতনতা ও প্রস্তুতিই পারে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনতে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর