দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

বগুড়ায় বিকল ট্রাক মেরামতের সময় চাপা পড়ে ৩ জনের মৃত্যু

বগুড়ায় বিকল ট্রাক মেরামতের সময় চাপা পড়ে ৩ জনের মৃত্যু

প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাই, বিমানবন্দর ছাত্রদলের সভাপতি-সম্পাদকসহ গ্রেফতার ৩

নলছিটিতে মুরগিবাহী পিকআপ গাছে ধাক্কা, হেলপার নিহত; আহত ৩

গাজীপুরে ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট

রংপুরে শিক্ষকসহ পরিবারের ৪ জন হত্যা: থানা থেকে ডিবিতে তদন্তভার

নারায়ণগঞ্জে তৈরি বিয়ের গাউন যাচ্ছে ইউরোপ–আমেরিকায়, বছরে রপ্তানি ৫০ লাখ ডলারের বেশি

শেরপুরে নিখোঁজের ১৪ ঘণ্টা পর পুকুরে মিলল দুই শিশুর মরদেহ

শেখ মোহাম্মদ মাজেদুল হক যিনি -মাজেদুল হক নামে অধিক পরিচিত "বিরহী কবি" উপাধিতে সমধিক খ্যাত ও সমাদৃত।

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবে বাড়ছে গণপিটুনি: জাতীয় সংসদে রুমিন ফারহানার বক্তব্য

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবে বাড়ছে গণপিটুনি: জাতীয় সংসদে রুমিন ফারহানার বক্তব্য
-ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক চর্চা থাকলেও বাংলাদেশে এখন “মব কালচার” বা গণপিটুনির সংস্কৃতি দেখা যাচ্ছে—এমন মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, গত দেড় বছর এবং সাম্প্রতিক দুই মাসে দেশে একের পর এক এমন ঘটনা ঘটছে, যা জননিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।

সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অনেক জায়গাতেই এখন মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় মবের উপস্থিতি দেখা গেছে। এমনকি বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণ এবং সুপ্রিম কোর্টের ল’ইয়ার্স রুমেও মবের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এসব ঘটনা বিচার ব্যবস্থার মর্যাদাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের হামলার বাইরে থাকছে না। রাজধানীর একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের কার্যালয়ে হামলার ঘটনা এবং চট্টগ্রামে ছিনতাইকারী সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে হত্যার মতো ঘটনা সমাজে অস্থিরতার চিত্র তুলে ধরে। একইভাবে কুষ্টিয়ায় অভিযোগকারী ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।

সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনাও করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একাধিকবার আশ্বাস দিয়েছিলেন দেশে মব কালচার বন্ধ হবে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করা হবে। কিন্তু বাস্তবে একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

তার মতে, মানুষ যখন ন্যায়বিচার পায় না, তখন অনেক সময় নিজেরাই বিচার করার চেষ্টা করে। এই প্রবণতাই ধীরে ধীরে মব কালচারে রূপ নিচ্ছে। তিনি বলেন, অপরাধের দ্রুত বিচার না হওয়া এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

পটভূমি হিসেবে জানা যায়, বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে “ছেলেধরা সন্দেহ”, “চুরি সন্দেহ” বা ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে গণপিটুনির বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার অনেক ক্ষেত্রেই তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকে, যা জনমনে হতাশা তৈরি করে। আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলে এ ধরনের প্রবণতা অনেকটাই কমে যেতে পারে।

এছাড়া দেশের আদালত প্রাঙ্গণ বা গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। এসব জায়গায় যদি অস্থিরতা তৈরি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সংসদে বক্তব্যের শেষদিকে রুমিন ফারহানা বলেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না থাকলে মব কালচার বন্ধ করা কঠিন হবে। তার মতে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

সব মিলিয়ে সংসদে তার এই বক্তব্য দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যতে এসব ঘটনা ঠেকাতে সরকার কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। 

বিষয় : দৃষ্টান্তমূলক : জাতীয় ফারহানার বক্তব্য

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবে বাড়ছে গণপিটুনি: জাতীয় সংসদে রুমিন ফারহানার বক্তব্য

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক চর্চা থাকলেও বাংলাদেশে এখন “মব কালচার” বা গণপিটুনির সংস্কৃতি দেখা যাচ্ছে—এমন মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, গত দেড় বছর এবং সাম্প্রতিক দুই মাসে দেশে একের পর এক এমন ঘটনা ঘটছে, যা জননিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।

সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অনেক জায়গাতেই এখন মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় মবের উপস্থিতি দেখা গেছে। এমনকি বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণ এবং সুপ্রিম কোর্টের ল’ইয়ার্স রুমেও মবের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এসব ঘটনা বিচার ব্যবস্থার মর্যাদাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের হামলার বাইরে থাকছে না। রাজধানীর একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের কার্যালয়ে হামলার ঘটনা এবং চট্টগ্রামে ছিনতাইকারী সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে হত্যার মতো ঘটনা সমাজে অস্থিরতার চিত্র তুলে ধরে। একইভাবে কুষ্টিয়ায় অভিযোগকারী ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।

সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনাও করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একাধিকবার আশ্বাস দিয়েছিলেন দেশে মব কালচার বন্ধ হবে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করা হবে। কিন্তু বাস্তবে একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

তার মতে, মানুষ যখন ন্যায়বিচার পায় না, তখন অনেক সময় নিজেরাই বিচার করার চেষ্টা করে। এই প্রবণতাই ধীরে ধীরে মব কালচারে রূপ নিচ্ছে। তিনি বলেন, অপরাধের দ্রুত বিচার না হওয়া এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

পটভূমি হিসেবে জানা যায়, বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে “ছেলেধরা সন্দেহ”, “চুরি সন্দেহ” বা ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে গণপিটুনির বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার অনেক ক্ষেত্রেই তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকে, যা জনমনে হতাশা তৈরি করে। আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলে এ ধরনের প্রবণতা অনেকটাই কমে যেতে পারে।

এছাড়া দেশের আদালত প্রাঙ্গণ বা গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। এসব জায়গায় যদি অস্থিরতা তৈরি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সংসদে বক্তব্যের শেষদিকে রুমিন ফারহানা বলেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না থাকলে মব কালচার বন্ধ করা কঠিন হবে। তার মতে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

সব মিলিয়ে সংসদে তার এই বক্তব্য দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যতে এসব ঘটনা ঠেকাতে সরকার কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। 


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর