দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহীতে বাড়ি থেকে বৃদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩

রাজশাহীতে বাড়ি থেকে বৃদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩

রহস্যময় বস্তা দেখে ৯৯৯-এ ফোন, খুলতেই মিলল হাত-পা বাঁধা তরুণীর মরদেহ

মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া সীমান্তে ১০ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা

নারায়ণগঞ্জে এক রাতে তিন স্থানে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৯; চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

উখিয়ায় চার বছরের শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার দম্পতি

বান্দরবানে পাহাড় কেটে রিসোর্ট, ‘ইকো’ নামের আড়ালে পরিবেশের ক্ষতি

সাবেক স্বামীর ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে শিক্ষিকা গ্রেপ্তার

নভেম্বরের শেষের দিকে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আশা

বিদ্যুতের দাম বাড়ছে? বৈশ্বিক সংকট, আইনি জটিলতা ও ভর্তুকির চাপে বড় সিদ্ধান্তের পথে সরকার!

বিদ্যুতের দাম বাড়ছে? বৈশ্বিক সংকট, আইনি জটিলতা ও ভর্তুকির চাপে বড় সিদ্ধান্তের পথে সরকার!
-ফাইল ফটো

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং ভর্তুকির ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলায় দেশে বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা বিদ্যুতের মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে সুপারিশ দেবে।

গত ৯ এপ্রিল জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, কমিটিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রী সদস্য হিসেবে রয়েছেন। পাশাপাশি অর্থ বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবরাও এতে অন্তর্ভুক্ত। কমিটির মূল কাজ হবে বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা দাম পুনর্বিবেচনা করে একটি যৌক্তিক প্রস্তাব তৈরি করা।


আইন অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্থাটি গণশুনানির মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ট্যারিফ নির্ধারণ করে আসছিল।

তবে ২০২২ সালে আইন সংশোধনের মাধ্যমে সরকার সরাসরি গেজেটের মাধ্যমে দাম নির্ধারণের ক্ষমতা নেয়। পরে আবার গণশুনানি প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নতুন করে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করায় আইনি কাঠামোর সঙ্গে আংশিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলমের মতে, বিদ্যুৎ খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও দুর্নীতির কারণে কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রথমে এই ঘাটতির প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাদ দিয়ে বাস্তব চিত্র সামনে আনতে হবে। তারপর প্রয়োজনে গণশুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”


বিধিমালার অভাব ও প্রশাসনিক জট

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদের মতে, কমিশনকে কার্যকরভাবে কাজ করতে হলে একটি পূর্ণাঙ্গ বিধিমালা প্রয়োজন। যদিও খসড়া বহুবার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, তা এখনো অনুমোদন পায়নি। এই আইনি ফাঁক ও প্রশাসনিক জটিলতার সুযোগেই সরকার সরাসরি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার দুর্বলতা। মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে।

স্বল্পমেয়াদে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ও তেল কিনে চাহিদা মেটানো ছাড়া বিকল্প না থাকায় ব্যয় বাড়ছে, যা অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।


মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম বেড়েছে। ফলে আমদানি ব্যয়ও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্চ ও এপ্রিল মাসেই স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

বর্তমানে জ্বালানি তেলে দৈনিক গড়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। চলতি বাজেটে ভর্তুকির জন্য বরাদ্দ ৪২ হাজার কোটি টাকা ইতোমধ্যেই চাপের মুখে, এবং জুন পর্যন্ত আরও প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ভর্তুকি কমিয়ে বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের জন্য চাপ দিচ্ছে, যা সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

বিষয় : বিদ্যুত

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


বিদ্যুতের দাম বাড়ছে? বৈশ্বিক সংকট, আইনি জটিলতা ও ভর্তুকির চাপে বড় সিদ্ধান্তের পথে সরকার!

প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং ভর্তুকির ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলায় দেশে বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা বিদ্যুতের মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে সুপারিশ দেবে।

গত ৯ এপ্রিল জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, কমিটিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রী সদস্য হিসেবে রয়েছেন। পাশাপাশি অর্থ বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবরাও এতে অন্তর্ভুক্ত। কমিটির মূল কাজ হবে বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা দাম পুনর্বিবেচনা করে একটি যৌক্তিক প্রস্তাব তৈরি করা।


আইন অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্থাটি গণশুনানির মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ট্যারিফ নির্ধারণ করে আসছিল।

তবে ২০২২ সালে আইন সংশোধনের মাধ্যমে সরকার সরাসরি গেজেটের মাধ্যমে দাম নির্ধারণের ক্ষমতা নেয়। পরে আবার গণশুনানি প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নতুন করে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করায় আইনি কাঠামোর সঙ্গে আংশিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলমের মতে, বিদ্যুৎ খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও দুর্নীতির কারণে কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রথমে এই ঘাটতির প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাদ দিয়ে বাস্তব চিত্র সামনে আনতে হবে। তারপর প্রয়োজনে গণশুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”


বিধিমালার অভাব ও প্রশাসনিক জট

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদের মতে, কমিশনকে কার্যকরভাবে কাজ করতে হলে একটি পূর্ণাঙ্গ বিধিমালা প্রয়োজন। যদিও খসড়া বহুবার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, তা এখনো অনুমোদন পায়নি। এই আইনি ফাঁক ও প্রশাসনিক জটিলতার সুযোগেই সরকার সরাসরি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার দুর্বলতা। মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে।

স্বল্পমেয়াদে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ও তেল কিনে চাহিদা মেটানো ছাড়া বিকল্প না থাকায় ব্যয় বাড়ছে, যা অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।


মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম বেড়েছে। ফলে আমদানি ব্যয়ও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্চ ও এপ্রিল মাসেই স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

বর্তমানে জ্বালানি তেলে দৈনিক গড়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। চলতি বাজেটে ভর্তুকির জন্য বরাদ্দ ৪২ হাজার কোটি টাকা ইতোমধ্যেই চাপের মুখে, এবং জুন পর্যন্ত আরও প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ভর্তুকি কমিয়ে বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের জন্য চাপ দিচ্ছে, যা সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর