দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

গাজীপুরে ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট

গাজীপুরে ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট

রংপুরে শিক্ষকসহ পরিবারের ৪ জন হত্যা: থানা থেকে ডিবিতে তদন্তভার

নারায়ণগঞ্জে তৈরি বিয়ের গাউন যাচ্ছে ইউরোপ–আমেরিকায়, বছরে রপ্তানি ৫০ লাখ ডলারের বেশি

শেরপুরে নিখোঁজের ১৪ ঘণ্টা পর পুকুরে মিলল দুই শিশুর মরদেহ

শেখ মোহাম্মদ মাজেদুল হক যিনি -মাজেদুল হক নামে অধিক পরিচিত "বিরহী কবি" উপাধিতে সমধিক খ্যাত ও সমাদৃত।

মহাখালী সাততলা ফাঁড়িতে অপকর্মের পাহাড়: পোশাকের আড়ালে ‘অসীম-গং’-এর মাদক ও ফিটিং বাণিজ্য!

চার সাংবাদিকের স্মরণে খিলক্ষেত প্রেস ক্লাবে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

নাসিরনগরে হাডুডু খেলা শেষে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১২–১৫ জন; পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পুলিশ

টেকনাফে অটোরিকশায় গোপনে পিস্তল বহন—৩ রোহিঙ্গা ডাকাত আটক

টেকনাফে অটোরিকশায় গোপনে পিস্তল বহন—৩ রোহিঙ্গা ডাকাত আটক
-ফাইল ফটো

কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী টেকনাফ উপজেলা-এ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তলসহ তিন রোহিঙ্গা ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (দুপুরে) উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর গরু বাজার এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে টেকনাফ ও আশপাশের এলাকায় অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং ডাকাতির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নিয়মিত টহল ও সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।

এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দুপুরে শামলাপুর গরু বাজার এলাকায় টেকনাফগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ সেটি থামার সংকেত দেয়। গাড়িতে থাকা যাত্রীদের আচরণে অসংগতি লক্ষ্য করলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি শুরু করা হয়।

তল্লাশির একপর্যায়ে মোহাম্মদ নবী (৪০) নামের এক যাত্রীর শরীর তল্লাশি করে তার উরুর ভেতরের অংশে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার সঙ্গে থাকা আরও দুই সহযোগী—নুরুল আমিন (২৯) ও মো. শাহজাহান (৪৫)—কে আটক করা হয়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটক তিনজনই উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-এর বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত এবং বিভিন্ন এলাকায় অপহরণ ও ডাকাতির পরিকল্পনা করে আসছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানিয়েছে, তারা অপহরণ ও ডাকাতির উদ্দেশ্যে অস্ত্রটি বহন করছিল। আমরা ধারণা করছি, তারা একটি সংগঠিত ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।”

তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া বিদেশি পিস্তলটি কীভাবে তাদের কাছে এসেছে এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এই চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় অপরাধের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে পুলিশের এই অভিযানে অস্ত্রসহ সন্দেহভাজন ডাকাতদের আটক করায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও বাড়ানোর দাবি জানান।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ডাকাতি সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬


টেকনাফে অটোরিকশায় গোপনে পিস্তল বহন—৩ রোহিঙ্গা ডাকাত আটক

প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী টেকনাফ উপজেলা-এ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তলসহ তিন রোহিঙ্গা ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (দুপুরে) উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর গরু বাজার এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে টেকনাফ ও আশপাশের এলাকায় অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং ডাকাতির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নিয়মিত টহল ও সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।

এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দুপুরে শামলাপুর গরু বাজার এলাকায় টেকনাফগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ সেটি থামার সংকেত দেয়। গাড়িতে থাকা যাত্রীদের আচরণে অসংগতি লক্ষ্য করলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি শুরু করা হয়।

তল্লাশির একপর্যায়ে মোহাম্মদ নবী (৪০) নামের এক যাত্রীর শরীর তল্লাশি করে তার উরুর ভেতরের অংশে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার সঙ্গে থাকা আরও দুই সহযোগী—নুরুল আমিন (২৯) ও মো. শাহজাহান (৪৫)—কে আটক করা হয়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটক তিনজনই উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-এর বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত এবং বিভিন্ন এলাকায় অপহরণ ও ডাকাতির পরিকল্পনা করে আসছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানিয়েছে, তারা অপহরণ ও ডাকাতির উদ্দেশ্যে অস্ত্রটি বহন করছিল। আমরা ধারণা করছি, তারা একটি সংগঠিত ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।”

তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া বিদেশি পিস্তলটি কীভাবে তাদের কাছে এসেছে এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এই চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় অপরাধের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে পুলিশের এই অভিযানে অস্ত্রসহ সন্দেহভাজন ডাকাতদের আটক করায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও বাড়ানোর দাবি জানান।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ডাকাতি সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর