রাজধানীর বুকে আবারও রক্তাক্ত রাজনীতি—মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোছাব্বির। বুধবার রাত সোয়া ৮টার দিকে রাজধানীর ব্যস্ত এলাকা বসুন্ধরা মার্কেটের পেছনে তেজতুরি বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুফিয়ান বেপারি মাসুদ, যিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের এডিসি ফজলুল করিম জানান, স্টার কাবাবের পাশের একটি গলিতে মোছাব্বির ও মাসুদকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় মোছাব্বিরকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার পেটে তিন রাউন্ড গুলি লেগেছিল। পুলিশ জানায়, রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালায়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মোটরসাইকেলে করে এসে দুর্বৃত্তরা নির্বিঘ্নে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। জোবায়ের হোসেন জাবেদ নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তিনি চারদিকে আতঙ্ক আর বিশৃঙ্খলা দেখতে পান।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মজিদ মিলন জানান, নিহত মোছাব্বির শরীয়তপুর জেলার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে বসুন্ধরা সিটির পেছনে কাজীপাড়া এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর তিনি শরীয়তপুর জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্তত ৪০ জন নেতাকর্মী নিয়ে স্টার কাবাবের দোতলায় একটি বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে রাত ৮টার দিকে অধিকাংশ নেতাকর্মী চলে যান। কিছুক্ষণ পর মোছাব্বির, সুফিয়ান মাসুদ, নুরুল আলম ও মিলন স্টার কাবাবের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
এ সময় একটি মাইক্রোবাস এসে থামে। গাড়ি থেকে লক্ষ্মীপুর বিএনপির এক নেতা নেমে মোছাব্বিরের সঙ্গে কথা বলেন এবং ওয়াসা অফিসে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। মোছাব্বির তখন দুজনকে সঙ্গে যেতে বলেন। তাদের যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর আসে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে মোছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাতেই কারওয়ান বাজারে সার্ক ফোয়ারা মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও শ্রমিকরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে।
নিহত মোছাব্বিরের পরিবার গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষায়, তিনি কাউকে কোনোদিন ক্ষতি করেননি। রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন শান্ত ও ভদ্র মানুষ। এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড তারা মেনে নিতে পারছেন না। নিহতের স্ত্রী ও স্বজনরা বলেন, পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং তারা অবিলম্বে ন্যায়বিচার চান। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার।
ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে ভয়াবহ ও অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি নির্দেশ করে। তারা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান এবং নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকেও সহিংস ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজধানীর ব্যস্ত এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, গুলির শব্দে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়। যদিও পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়, তবে নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ কাটেনি।
নিহত মোছাব্বিরের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যে কোনো মূল্যেই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল রহস্য উদঘাটন করা হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে একের পর এক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—রাষ্ট্র কি আদৌ নাগরিকের জীবন নিরাপদ রাখতে পারছে?

মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর বুকে আবারও রক্তাক্ত রাজনীতি—মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোছাব্বির। বুধবার রাত সোয়া ৮টার দিকে রাজধানীর ব্যস্ত এলাকা বসুন্ধরা মার্কেটের পেছনে তেজতুরি বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুফিয়ান বেপারি মাসুদ, যিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের এডিসি ফজলুল করিম জানান, স্টার কাবাবের পাশের একটি গলিতে মোছাব্বির ও মাসুদকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় মোছাব্বিরকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার পেটে তিন রাউন্ড গুলি লেগেছিল। পুলিশ জানায়, রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালায়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মোটরসাইকেলে করে এসে দুর্বৃত্তরা নির্বিঘ্নে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। জোবায়ের হোসেন জাবেদ নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তিনি চারদিকে আতঙ্ক আর বিশৃঙ্খলা দেখতে পান।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মজিদ মিলন জানান, নিহত মোছাব্বির শরীয়তপুর জেলার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে বসুন্ধরা সিটির পেছনে কাজীপাড়া এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর তিনি শরীয়তপুর জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্তত ৪০ জন নেতাকর্মী নিয়ে স্টার কাবাবের দোতলায় একটি বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে রাত ৮টার দিকে অধিকাংশ নেতাকর্মী চলে যান। কিছুক্ষণ পর মোছাব্বির, সুফিয়ান মাসুদ, নুরুল আলম ও মিলন স্টার কাবাবের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
এ সময় একটি মাইক্রোবাস এসে থামে। গাড়ি থেকে লক্ষ্মীপুর বিএনপির এক নেতা নেমে মোছাব্বিরের সঙ্গে কথা বলেন এবং ওয়াসা অফিসে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। মোছাব্বির তখন দুজনকে সঙ্গে যেতে বলেন। তাদের যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর আসে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে মোছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাতেই কারওয়ান বাজারে সার্ক ফোয়ারা মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও শ্রমিকরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে।
নিহত মোছাব্বিরের পরিবার গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষায়, তিনি কাউকে কোনোদিন ক্ষতি করেননি। রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন শান্ত ও ভদ্র মানুষ। এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড তারা মেনে নিতে পারছেন না। নিহতের স্ত্রী ও স্বজনরা বলেন, পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং তারা অবিলম্বে ন্যায়বিচার চান। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার।
ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে ভয়াবহ ও অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি নির্দেশ করে। তারা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান এবং নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকেও সহিংস ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজধানীর ব্যস্ত এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, গুলির শব্দে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়। যদিও পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়, তবে নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ কাটেনি।
নিহত মোছাব্বিরের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যে কোনো মূল্যেই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল রহস্য উদঘাটন করা হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে একের পর এক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—রাষ্ট্র কি আদৌ নাগরিকের জীবন নিরাপদ রাখতে পারছে?

আপনার মতামত লিখুন