দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

বান্দরবানে পাহাড় কেটে রিসোর্ট, ‘ইকো’ নামের আড়ালে পরিবেশের ক্ষতি

বান্দরবানে পাহাড় কেটে রিসোর্ট, ‘ইকো’ নামের আড়ালে পরিবেশের ক্ষতি

সাবেক স্বামীর ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে শিক্ষিকা গ্রেপ্তার

নভেম্বরের শেষের দিকে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আশা

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, তদন্তে পুলিশ

সেপ্টেম্বরে বিজিবির অভিযানে ২৫৪ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

ভোটের কালি শুকানোর আগেই ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন: শামা ওবায়েদ

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, সিএনজিচালক গ্রেপ্তার

খুলনায় পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

নভেম্বরের শেষের দিকে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আশা

নভেম্বরের শেষের দিকে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আশা
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নভেম্বরের শেষের দিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আশা করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা রোসাটম।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আগামী ২০ নভেম্বর থেকে মাসের শেষ নাগাদ বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে আশা করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম। একই সঙ্গে বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) রোসাটমের গণমাধ্যম বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাশিয়া সফরকালে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব কথা জানান রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে আলেক্সেই লিখাচেভ বলেন, আগামী ২০ নভেম্বর থেকে মাসের শেষ নাগাদ উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে তাঁরা আশা করছেন।

তবে এটি রোসাটমের প্রত্যাশিত সময়সীমা। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর চূড়ান্ত সময় নির্ভর করবে প্রকল্পের চালুকরণ কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপর।

লিখাচেভ বলেন, রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রত্যাশা বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণের আগ্রহও তৈরি করেছে। এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে প্রকল্প সম্প্রসারণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রোসাটমের অন্যান্য প্রস্তাবের প্রতিও বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে বলে জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য সম্ভাব্য প্রস্তাব সম্পর্কেও জানতে চেয়েছেন।

রোসাটমের সম্ভাব্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে ছোট আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। অন্যান্য দেশের জন্যও এসব প্রযুক্তি নিয়ে সমন্বিত প্রস্তাব দেয় রুশ সংস্থাটি।

তবে বাংলাদেশে এসব প্রযুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়নি। এ নিয়ে আলোচনা ভবিষ্যতে কোন পর্যায়ে যায়, তা নির্ভর করবে বাংলাদেশের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ওপর।

চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু করে রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট চালুর প্রক্রিয়ায় এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

২০১১ সালে স্বাক্ষরিত আন্তসরকারি চুক্তির ভিত্তিতে রোসাটম বাংলাদেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত এ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটে উৎপাদন শুরু হলে জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় নতুন উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত হবে। তবে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ কখন এবং কী পরিমাণে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে, তা চালুকরণ ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।

এর আগে আলেক্সেই লিখাচেভ জানিয়েছিলেন, আগামী বছর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে চালুকরণ কার্যক্রম শুরুর প্রত্যাশা করছে রোসাটম।

প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটির মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে দুই ইউনিটের উৎপাদন শুরুর সময়সূচি ও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি পৃথকভাবে বিবেচ্য।

বিষয় : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর বিদ্যুৎ উৎপাদন পারমাণবিক বিদ্যুৎ বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


নভেম্বরের শেষের দিকে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আশা

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আগামী ২০ নভেম্বর থেকে মাসের শেষ নাগাদ বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে আশা করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম। একই সঙ্গে বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) রোসাটমের গণমাধ্যম বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাশিয়া সফরকালে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব কথা জানান রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে আলেক্সেই লিখাচেভ বলেন, আগামী ২০ নভেম্বর থেকে মাসের শেষ নাগাদ উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে তাঁরা আশা করছেন।

তবে এটি রোসাটমের প্রত্যাশিত সময়সীমা। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর চূড়ান্ত সময় নির্ভর করবে প্রকল্পের চালুকরণ কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপর।

লিখাচেভ বলেন, রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রত্যাশা বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণের আগ্রহও তৈরি করেছে। এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে প্রকল্প সম্প্রসারণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রোসাটমের অন্যান্য প্রস্তাবের প্রতিও বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে বলে জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য সম্ভাব্য প্রস্তাব সম্পর্কেও জানতে চেয়েছেন।

রোসাটমের সম্ভাব্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে ছোট আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। অন্যান্য দেশের জন্যও এসব প্রযুক্তি নিয়ে সমন্বিত প্রস্তাব দেয় রুশ সংস্থাটি।

তবে বাংলাদেশে এসব প্রযুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়নি। এ নিয়ে আলোচনা ভবিষ্যতে কোন পর্যায়ে যায়, তা নির্ভর করবে বাংলাদেশের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ওপর।

চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু করে রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট চালুর প্রক্রিয়ায় এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

২০১১ সালে স্বাক্ষরিত আন্তসরকারি চুক্তির ভিত্তিতে রোসাটম বাংলাদেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত এ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটে উৎপাদন শুরু হলে জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় নতুন উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত হবে। তবে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ কখন এবং কী পরিমাণে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে, তা চালুকরণ ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।

এর আগে আলেক্সেই লিখাচেভ জানিয়েছিলেন, আগামী বছর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে চালুকরণ কার্যক্রম শুরুর প্রত্যাশা করছে রোসাটম।

প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটির মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে দুই ইউনিটের উৎপাদন শুরুর সময়সূচি ও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি পৃথকভাবে বিবেচ্য।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর