দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

পঞ্চগড় সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ভারতে ফেরত

পঞ্চগড় সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ভারতে ফেরত

যান্ত্রিক ত্রুটিতে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ

দুর্দিনেও শতবর্ষের নৌকা তৈরির পেশা আঁকড়ে চাপাতলীর কারিগররা

বন্ধুকে বাসায় দাওয়াত দিয়ে জিম্মি, ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি; গ্রেপ্তার ২

শীতের আগমনী বার্তাতেও রাজধানীর সবজিবাজারে স্বস্তি নেই

২ সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দিয়ে চলছে ১৮০ স্কুল, ১১৭টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ২৮৮২

বাউফলে গভীর রাতে মিনিটের ব্যবধানে ৪ বিস্ফোরণের শব্দ, আতঙ্ক

দুর্দিনেও শতবর্ষের নৌকা তৈরির পেশা আঁকড়ে চাপাতলীর কারিগররা

দুর্দিনেও শতবর্ষের নৌকা তৈরির পেশা আঁকড়ে চাপাতলীর কারিগররা
বর্ষা মৌসুমে কুমিল্লার দাউদকান্দির চাপাতলী গ্রামের বাড়ির উঠানে চলে ঐতিহ্যবাহী কাঠের নৌকা তৈরির কাজ।

কুমিল্লার দাউদকান্দির চাপাতলী গ্রামে বর্ষা এলেই বদলে যায় চেনা দৃশ্যপট। বাড়ির উঠানে উঠানে শুরু হয় নৌকা তৈরির ব্যস্ততা। রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত শোনা যায় হাতুড়ির ঠকঠক শব্দ। বছরের আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র—এই তিন মাসে গ্রামটি যেন হয়ে ওঠে নৌকা তৈরির এক ব্যস্ত কারখানা।

দূর-দূরান্ত থেকে মানুষও ছুটে আসেন চাপাতলীতে। কেউ তৈরি নৌকা কিনতে, কেউ অর্ডার দিতে, আবার কেউ আসেন ‘নৌকার গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত এই জনপদের পুরোনো ঐতিহ্য দেখতে। কিন্তু সময় বদলেছে। সড়ক যোগাযোগের উন্নতি, ফাইবারের নৌকার ব্যবহার এবং কাঠ ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় শতবর্ষের এই পেশা এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে।

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মালিগাঁও ইউনিয়নের চাপাতলী গ্রামের প্রায় ২৫০ পরিবারের মধ্যে একসময় শতাধিক পরিবার বংশপরম্পরায় নৌকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিল। প্রায় এক শতাব্দী ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই পেশা ধরে রেখেছিলেন তারা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১০০ বছর আগে চাপাতলী গ্রামের বলাই চন্দ্র সরকার নৌকা তৈরির কাজ শুরু করেন। তাঁর কাছ থেকে কাজ শিখে গ্রামের অন্যরাও ধীরে ধীরে এই পেশায় যুক্ত হন। এরপর নৌকা তৈরি হয়ে ওঠে গ্রামের অনেক পরিবারের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস।

বর্ষা এলেই বাড়ির উঠানে কাঠ, লোহা ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে বসে যেতেন কারিগররা। পুরুষেরা নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকতেন, আর পরিবারের নারীরা রান্নাবান্নাসহ নানা কাজে সহযোগিতা করতেন।

চাপাতলীতে শুধু এক ধরনের নৌকা তৈরি হয় না। এখানে কোষা নৌকা, ডিঙি, পাতাতোলা কোষা, দুথপা নৌকা ও দিগাইল্যা কোষাসহ বিভিন্ন ধরনের নৌকা তৈরি করেন কারিগররা।

এসব নৌকা স্থানীয় ও আশপাশের বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করা হয়। প্লাবনভূমিতে মাছের খামার পরিচালনার কাজেও এসব নৌকার ব্যবহার রয়েছে।

তবে নৌকার ব্যবহার আগের মতো নেই। দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগের উন্নতি হওয়ায় মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে নৌকার ওপর নির্ভরতা কমেছে। এর সঙ্গে বাজারে ফাইবারের নৌকা আসায় কাঠের নৌকার প্রতিযোগিতাও বেড়েছে।

চাপাতলীর নৌকা তৈরির কারিগরদের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া। কাঠ, লোহা ও অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়লেও নৌকার দাম সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে শ্রম ও সময়ের তুলনায় লাভ কমে যাচ্ছে।

গ্রামের মানিক বলেন, ‘আগে একটি মাঝারি আকারের নৌকা ২০ হাজার টাকায় তৈরি করা যেত। এখন শুধু কাঠ ও লোহার দামেই এর দ্বিগুণ খরচ হয়। সেগুন, গামারি, কড়ইসহ বিভিন্ন কাঠও আগের মতো পাওয়া যাচ্ছে না।’

তিনি জানান, মৌসুমে গ্রামে প্রায় তিন থেকে চারটি নৌকা তৈরি করা হয়, যা উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করা হয়। তবে মৌসুমের বাইরেও সারা বছর নৌকা তৈরির কাজ চলে।

অমূল্য চন্দ্র সূত্রধর জানান, ১০-১২ বছর আগেও গ্রামের শতাধিক পরিবার নৌকা তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিল। এখন সেই সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১০ থেকে ১২টি পরিবার এই পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। বাকিরা অন্য পেশায় চলে গেছেন।

নৌকা তৈরির উপযুক্ত মূল্য না পাওয়ায় অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ এখনো আঁকড়ে ধরে রেখেছেন পূর্বপুরুষের পেশা।

নৌকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের জীবনে এখন কাজের নিশ্চয়তাও নেই। চাহিদা কমে যাওয়ায় কখনো কাজ থাকে, আবার কখনো দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয়।

গ্রামের আশু মিস্ত্রি বলেন, ‘একটা সময় বছরের অর্ধেক সময় নৌকা তৈরির কাজ চলত। এখন মাসের পর মাস বসে থাকতে হয়। তৈরি করা নৌকা অনেক কষ্ট করে অন্য হাটে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে হয়। এতে আমাদের লাভের পরিমাণ কমে যায়।’

নৌকা তৈরির মিস্ত্রি চন্দন সরকার বলেন, ‘শত বছর আগে থেকে আমাদের পূর্বপুরুষরা নৌকা বানাতেন। মৌসুম এলেই পুরো গ্রামের উঠানগুলো নতুন নতুন নৌকার ঝলকে মুখরিত হয়ে উঠত। এখন আর সেই রূপ নেই।’

নৌকার চাহিদা কমে যাওয়ায় এই পেশার কারিগরদের অনেকেই এখন বিকল্প কাজ করছেন। নৌকা তৈরির পাশাপাশি তারা বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে কাঠের ঘর, ফার্নিচার ও অন্যান্য কাঠের আসবাবপত্র তৈরি করেন।

অর্থাৎ নৌকা তৈরি এখন অনেকের কাছে আর একমাত্র জীবিকা নয়। বরং পুরোনো পেশাকে ধরে রাখার পাশাপাশি সংসার চালাতে অন্য কাজের ওপরও নির্ভর করতে হচ্ছে তাদের।

এ কারণেই চাপাতলীর নৌকা তৈরির ঐতিহ্য শুধু একটি পেশার সংকট নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি গ্রামের দীর্ঘদিনের দক্ষতা, পারিবারিক জ্ঞান এবং স্থানীয় সংস্কৃতি।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা নৌকা তৈরির কারিগরি দক্ষতা সাধারণ কোনো প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করা যায় না। কাঠ নির্বাচন, কাঠের মাপ, নৌকার কাঠামো তৈরি, জোড়া লাগানো—প্রতিটি কাজের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় জ্ঞান জড়িয়ে আছে।

কিন্তু নতুন প্রজন্ম যদি এই পেশায় আগ্রহ হারায়, তাহলে শুধু কয়েকটি পরিবার নয়, হারিয়ে যেতে পারে চাপাতলীর স্বতন্ত্র পরিচয়ও।

কারিগরদের মতে, কাঠের নৌকার বাজার তৈরি করা, ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা এবং ঐতিহ্যবাহী নৌকা তৈরিকে স্থানীয় শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া গেলে এই পেশাকে কিছুটা টিকিয়ে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি পর্যটন বা ঐতিহ্যভিত্তিক উদ্যোগের সঙ্গে চাপাতলীর নৌকা তৈরির সংস্কৃতিকে যুক্ত করা গেলে কারিগরদের জন্য নতুন বাজারও তৈরি হতে পারে।

বিষয় : চাপাতলীর নৌকা নৌকার গ্রাম চাপাতলী কুমিল্লার ঐতিহ্য গ্রামীণ কারুশিল্প

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


দুর্দিনেও শতবর্ষের নৌকা তৈরির পেশা আঁকড়ে চাপাতলীর কারিগররা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কুমিল্লার দাউদকান্দির চাপাতলী গ্রামে বর্ষা এলেই বদলে যায় চেনা দৃশ্যপট। বাড়ির উঠানে উঠানে শুরু হয় নৌকা তৈরির ব্যস্ততা। রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত শোনা যায় হাতুড়ির ঠকঠক শব্দ। বছরের আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র—এই তিন মাসে গ্রামটি যেন হয়ে ওঠে নৌকা তৈরির এক ব্যস্ত কারখানা।

দূর-দূরান্ত থেকে মানুষও ছুটে আসেন চাপাতলীতে। কেউ তৈরি নৌকা কিনতে, কেউ অর্ডার দিতে, আবার কেউ আসেন ‘নৌকার গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত এই জনপদের পুরোনো ঐতিহ্য দেখতে। কিন্তু সময় বদলেছে। সড়ক যোগাযোগের উন্নতি, ফাইবারের নৌকার ব্যবহার এবং কাঠ ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় শতবর্ষের এই পেশা এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে।

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মালিগাঁও ইউনিয়নের চাপাতলী গ্রামের প্রায় ২৫০ পরিবারের মধ্যে একসময় শতাধিক পরিবার বংশপরম্পরায় নৌকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিল। প্রায় এক শতাব্দী ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই পেশা ধরে রেখেছিলেন তারা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১০০ বছর আগে চাপাতলী গ্রামের বলাই চন্দ্র সরকার নৌকা তৈরির কাজ শুরু করেন। তাঁর কাছ থেকে কাজ শিখে গ্রামের অন্যরাও ধীরে ধীরে এই পেশায় যুক্ত হন। এরপর নৌকা তৈরি হয়ে ওঠে গ্রামের অনেক পরিবারের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস।

বর্ষা এলেই বাড়ির উঠানে কাঠ, লোহা ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে বসে যেতেন কারিগররা। পুরুষেরা নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকতেন, আর পরিবারের নারীরা রান্নাবান্নাসহ নানা কাজে সহযোগিতা করতেন।

চাপাতলীতে শুধু এক ধরনের নৌকা তৈরি হয় না। এখানে কোষা নৌকা, ডিঙি, পাতাতোলা কোষা, দুথপা নৌকা ও দিগাইল্যা কোষাসহ বিভিন্ন ধরনের নৌকা তৈরি করেন কারিগররা।

এসব নৌকা স্থানীয় ও আশপাশের বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করা হয়। প্লাবনভূমিতে মাছের খামার পরিচালনার কাজেও এসব নৌকার ব্যবহার রয়েছে।

তবে নৌকার ব্যবহার আগের মতো নেই। দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগের উন্নতি হওয়ায় মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে নৌকার ওপর নির্ভরতা কমেছে। এর সঙ্গে বাজারে ফাইবারের নৌকা আসায় কাঠের নৌকার প্রতিযোগিতাও বেড়েছে।

চাপাতলীর নৌকা তৈরির কারিগরদের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া। কাঠ, লোহা ও অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়লেও নৌকার দাম সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে শ্রম ও সময়ের তুলনায় লাভ কমে যাচ্ছে।

গ্রামের মানিক বলেন, ‘আগে একটি মাঝারি আকারের নৌকা ২০ হাজার টাকায় তৈরি করা যেত। এখন শুধু কাঠ ও লোহার দামেই এর দ্বিগুণ খরচ হয়। সেগুন, গামারি, কড়ইসহ বিভিন্ন কাঠও আগের মতো পাওয়া যাচ্ছে না।’

তিনি জানান, মৌসুমে গ্রামে প্রায় তিন থেকে চারটি নৌকা তৈরি করা হয়, যা উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করা হয়। তবে মৌসুমের বাইরেও সারা বছর নৌকা তৈরির কাজ চলে।

অমূল্য চন্দ্র সূত্রধর জানান, ১০-১২ বছর আগেও গ্রামের শতাধিক পরিবার নৌকা তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিল। এখন সেই সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১০ থেকে ১২টি পরিবার এই পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। বাকিরা অন্য পেশায় চলে গেছেন।

নৌকা তৈরির উপযুক্ত মূল্য না পাওয়ায় অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ এখনো আঁকড়ে ধরে রেখেছেন পূর্বপুরুষের পেশা।

নৌকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের জীবনে এখন কাজের নিশ্চয়তাও নেই। চাহিদা কমে যাওয়ায় কখনো কাজ থাকে, আবার কখনো দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয়।

গ্রামের আশু মিস্ত্রি বলেন, ‘একটা সময় বছরের অর্ধেক সময় নৌকা তৈরির কাজ চলত। এখন মাসের পর মাস বসে থাকতে হয়। তৈরি করা নৌকা অনেক কষ্ট করে অন্য হাটে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে হয়। এতে আমাদের লাভের পরিমাণ কমে যায়।’

নৌকা তৈরির মিস্ত্রি চন্দন সরকার বলেন, ‘শত বছর আগে থেকে আমাদের পূর্বপুরুষরা নৌকা বানাতেন। মৌসুম এলেই পুরো গ্রামের উঠানগুলো নতুন নতুন নৌকার ঝলকে মুখরিত হয়ে উঠত। এখন আর সেই রূপ নেই।’

নৌকার চাহিদা কমে যাওয়ায় এই পেশার কারিগরদের অনেকেই এখন বিকল্প কাজ করছেন। নৌকা তৈরির পাশাপাশি তারা বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে কাঠের ঘর, ফার্নিচার ও অন্যান্য কাঠের আসবাবপত্র তৈরি করেন।

অর্থাৎ নৌকা তৈরি এখন অনেকের কাছে আর একমাত্র জীবিকা নয়। বরং পুরোনো পেশাকে ধরে রাখার পাশাপাশি সংসার চালাতে অন্য কাজের ওপরও নির্ভর করতে হচ্ছে তাদের।

এ কারণেই চাপাতলীর নৌকা তৈরির ঐতিহ্য শুধু একটি পেশার সংকট নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি গ্রামের দীর্ঘদিনের দক্ষতা, পারিবারিক জ্ঞান এবং স্থানীয় সংস্কৃতি।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা নৌকা তৈরির কারিগরি দক্ষতা সাধারণ কোনো প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করা যায় না। কাঠ নির্বাচন, কাঠের মাপ, নৌকার কাঠামো তৈরি, জোড়া লাগানো—প্রতিটি কাজের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় জ্ঞান জড়িয়ে আছে।

কিন্তু নতুন প্রজন্ম যদি এই পেশায় আগ্রহ হারায়, তাহলে শুধু কয়েকটি পরিবার নয়, হারিয়ে যেতে পারে চাপাতলীর স্বতন্ত্র পরিচয়ও।

কারিগরদের মতে, কাঠের নৌকার বাজার তৈরি করা, ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা এবং ঐতিহ্যবাহী নৌকা তৈরিকে স্থানীয় শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া গেলে এই পেশাকে কিছুটা টিকিয়ে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি পর্যটন বা ঐতিহ্যভিত্তিক উদ্যোগের সঙ্গে চাপাতলীর নৌকা তৈরির সংস্কৃতিকে যুক্ত করা গেলে কারিগরদের জন্য নতুন বাজারও তৈরি হতে পারে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর