দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিখোঁজ শিশুকে খুঁজছিল সবাই, ফুফুর কক্ষের বাক্সে পাওয়া গেল মরদেহ

নিখোঁজ শিশুকে খুঁজছিল সবাই, ফুফুর কক্ষের বাক্সে পাওয়া গেল মরদেহ

আঙুলের ছাপ ক্লোন করে বিকাশ-নগদের আড়াই লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৯

আদাবরে চাপাতি নিয়ে হামলা, পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ ২; গ্রেপ্তার ১০

গাজীপুরে ১৬ বছরের পোশাক শ্রমিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ফেনীর হোটেলের বাথরুমে তৈরি হচ্ছিল ভেজাল ‘খাঁটি মধু’, আটক ৪

বগি ফেলে চলে গেল ট্রেনের ইঞ্জিন, মহাসড়কে ঘণ্টাব্যাপী যানজট

টিকটকে পরিচয়, অতঃপর প্রেম; দেখা করতে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ

সালিসি বৈঠকে যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত, গ্রেপ্তারে পুলিশ

আঙুলের ছাপ ক্লোন করে বিকাশ-নগদের আড়াই লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৯

আঙুলের ছাপ ক্লোন করে বিকাশ-নগদের আড়াই লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৯
ফিঙ্গারপ্রিন্ট ক্লোন করে বিকাশ-নগদের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় গ্রেপ্তার নয়জনের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও সিম জব্দ করেছে পুলিশ।

বিকাশ ও নগদের এজেন্টদের আঙুলের ছাপ ক্লোন করে সিম পুনরায় তুলে নিয়েছিল একটি চক্র। এরপর ওই সিমে থাকা প্রায় আড়াই লাখ টাকা বিভিন্ন নম্বরে ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাগেরহাটের মোংলা থেকে চক্রটির নয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের সময় ১১টি মোবাইল ফোন ও ২০টি সিম জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আত্মসাৎ করা অর্থের মধ্যে ৮০ হাজার ৭৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম।

পুলিশ সুপার জানান, মোংলার চিলা বাজারের বিকাশ ও নগদ এজেন্ট সেলিম শেখের দুটি এবং অপর এজেন্ট বিপ্লব মণ্ডলের একটি ব্যবসায়িক সিম ডিজিটাল জালিয়াতির শিকার হয়।

গত ২৭ জুন ভোরে ক্লোন করা আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে সিম তিনটি পুনরায় উত্তোলন বা রি-ইস্যু করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় প্রতারক চক্রটি।

এরপর ওই সিমগুলোর সঙ্গে যুক্ত আর্থিক হিসাবে থাকা মোট ২ লাখ ৫০ হাজার ৮৬৮ টাকা ছয়টি ভিন্ন বিকাশ ও নগদ নম্বরে ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে স্থানান্তর করে নেওয়া হয় বলে জানায় পুলিশ।

ঘটনার পর ১ জুলাই মোংলা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মামলা হওয়ার দিনই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালানো হয়। মোংলার মামার ঘাট এলাকা থেকে চক্রের সদস্য ইয়াছিন সওদাগর ও মো. শামীম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, শামীমের মোবাইল ফোন থেকে আত্মসাৎ করা অর্থের ৮০ হাজার ৭৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর ও ফকিরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তী সময়ে র‍্যাবের সহযোগিতায় ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ইয়াছিন সওদাগর (২১), শামীম শেখ (২৭), রাশেদ মোড়ল (২০), এহসানুল হাসান রাকিব (৩২), ফেরদাউস (২১), আশ্রাফুল ইসলাম (২৬), মেহেদী হাসান (২৯), মো. নাজমুল হাসান (২০) ও মো. মামুন গাজী (২১)।

তাদের বাড়ি বাগেরহাট, পটুয়াখালী, মুন্সীগঞ্জ ও বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯টি স্মার্টফোন, দুটি বাটন ফোন ও ২০টি সিম জব্দ করা হয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, জব্দ করা ডিভাইস ও সিমে একাধিক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সংরক্ষিত নমুনা ফিঙ্গারপ্রিন্টও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এগুলো পরীক্ষা করে চক্রটির প্রতারণার পদ্ধতি এবং এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে।

মোবাইল আর্থিক সেবার এজেন্টদের সিমের নিয়ন্ত্রণ চলে গেলে শুধু মোবাইল নম্বর নয়, সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ ঘটনায় ক্লোন করা ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে সিম রি-ইস্যুর অভিযোগ ওঠায় ডিজিটাল পরিচয় যাচাই ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে ব্যবসায়িক সিম ও মোবাইল আর্থিক সেবার অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই, সিম পুনঃইস্যু এবং বায়োমেট্রিক তথ্যের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে—তদন্তের পাশাপাশি এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ করা বাকি টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিম ও বায়োমেট্রিক তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো সিম অস্বাভাবিকভাবে বন্ধ হয়ে গেলে বা পুনঃইস্যু হওয়ার তথ্য পেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটর ও আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করা জরুরি।

একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনায় শুধু টাকা উদ্ধার নয়, কীভাবে বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করে সিমের নিয়ন্ত্রণ বদলানো হলো, সেই প্রক্রিয়াটিও তদন্ত করে দুর্বলতা চিহ্নিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

বিষয় : ফিঙ্গারপ্রিন্ট ক্লোন বিকাশ নগদ প্রতারণা বিকাশের টাকা আত্মসাৎ ফিঙ্গারপ্রিন্ট জালিয়াতি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আঙুলের ছাপ ক্লোন করে বিকাশ-নগদের আড়াই লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৯

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বিকাশ ও নগদের এজেন্টদের আঙুলের ছাপ ক্লোন করে সিম পুনরায় তুলে নিয়েছিল একটি চক্র। এরপর ওই সিমে থাকা প্রায় আড়াই লাখ টাকা বিভিন্ন নম্বরে ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাগেরহাটের মোংলা থেকে চক্রটির নয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের সময় ১১টি মোবাইল ফোন ও ২০টি সিম জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আত্মসাৎ করা অর্থের মধ্যে ৮০ হাজার ৭৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম।

পুলিশ সুপার জানান, মোংলার চিলা বাজারের বিকাশ ও নগদ এজেন্ট সেলিম শেখের দুটি এবং অপর এজেন্ট বিপ্লব মণ্ডলের একটি ব্যবসায়িক সিম ডিজিটাল জালিয়াতির শিকার হয়।

গত ২৭ জুন ভোরে ক্লোন করা আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে সিম তিনটি পুনরায় উত্তোলন বা রি-ইস্যু করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় প্রতারক চক্রটি।

এরপর ওই সিমগুলোর সঙ্গে যুক্ত আর্থিক হিসাবে থাকা মোট ২ লাখ ৫০ হাজার ৮৬৮ টাকা ছয়টি ভিন্ন বিকাশ ও নগদ নম্বরে ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে স্থানান্তর করে নেওয়া হয় বলে জানায় পুলিশ।

ঘটনার পর ১ জুলাই মোংলা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মামলা হওয়ার দিনই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালানো হয়। মোংলার মামার ঘাট এলাকা থেকে চক্রের সদস্য ইয়াছিন সওদাগর ও মো. শামীম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, শামীমের মোবাইল ফোন থেকে আত্মসাৎ করা অর্থের ৮০ হাজার ৭৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর ও ফকিরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তী সময়ে র‍্যাবের সহযোগিতায় ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ইয়াছিন সওদাগর (২১), শামীম শেখ (২৭), রাশেদ মোড়ল (২০), এহসানুল হাসান রাকিব (৩২), ফেরদাউস (২১), আশ্রাফুল ইসলাম (২৬), মেহেদী হাসান (২৯), মো. নাজমুল হাসান (২০) ও মো. মামুন গাজী (২১)।

তাদের বাড়ি বাগেরহাট, পটুয়াখালী, মুন্সীগঞ্জ ও বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯টি স্মার্টফোন, দুটি বাটন ফোন ও ২০টি সিম জব্দ করা হয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, জব্দ করা ডিভাইস ও সিমে একাধিক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সংরক্ষিত নমুনা ফিঙ্গারপ্রিন্টও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এগুলো পরীক্ষা করে চক্রটির প্রতারণার পদ্ধতি এবং এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে।

মোবাইল আর্থিক সেবার এজেন্টদের সিমের নিয়ন্ত্রণ চলে গেলে শুধু মোবাইল নম্বর নয়, সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ ঘটনায় ক্লোন করা ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে সিম রি-ইস্যুর অভিযোগ ওঠায় ডিজিটাল পরিচয় যাচাই ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে ব্যবসায়িক সিম ও মোবাইল আর্থিক সেবার অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই, সিম পুনঃইস্যু এবং বায়োমেট্রিক তথ্যের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে—তদন্তের পাশাপাশি এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ করা বাকি টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিম ও বায়োমেট্রিক তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো সিম অস্বাভাবিকভাবে বন্ধ হয়ে গেলে বা পুনঃইস্যু হওয়ার তথ্য পেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটর ও আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করা জরুরি।

একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনায় শুধু টাকা উদ্ধার নয়, কীভাবে বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করে সিমের নিয়ন্ত্রণ বদলানো হলো, সেই প্রক্রিয়াটিও তদন্ত করে দুর্বলতা চিহ্নিত করা গুরুত্বপূর্ণ।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর