সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ নেশাজাতীয় সিরাপসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে র্যাব-১২, সিপিসি-২ পাবনা। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ১৩৮ বোতল নিষিদ্ধ সিরাপ ও নগদ অর্থ।
র্যাব জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১০ মে) সন্ধ্যায় শাহজাদপুর থানার রুপপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে একজনকে আটক করা হয়েছে, যিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
র্যাব-১২ সূত্রে জানা যায়, রুপপুর এলাকায় এক ব্যক্তি অবৈধ নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন—এমন তথ্য পেয়ে দ্রুত অভিযান পরিকল্পনা করা হয়।
সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৩৫ মিনিটে কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট ওয়াহিদুজ্জামান (এস), বিএন-এর নেতৃত্বে র্যাবের একটি আভিযানিক দল সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়।
পরে তার কাছ থেকে ১৩৮ বোতল ইস্কাফ সিরাপ এবং নগদ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেছে র্যাব।
আটক ব্যক্তির নাম মো. আকছেদ আলী (৫২)। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার রুপপুর এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত হাজী শুকুর আলী বলে জানা গেছে।
র্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অবৈধ মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে কিছু তথ্য দিয়েছেন। তবে এসব তথ্য তদন্তাধীন থাকায় বিস্তারিত জানানো হয়নি।
র্যাব জানায়, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১৪(গ) ধারায় শাহজাদপুর থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
আটক ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই গোপনে নেশাজাতীয় দ্রব্য কেনাবেচার অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এসব মাদকের বিস্তার নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়ছিল।
তাদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি থাকলে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কসংলগ্ন এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু অভিযান নয়, একই সঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের বিকল্প সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাও জরুরি। না হলে মাদকবিরোধী লড়াই দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও দিতে পারে।
শাহজাদপুরের রুপপুর এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানের মাধ্যমে আবারও মাদক চক্রের সক্রিয়তার বিষয়টি সামনে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা—শুধু আটক নয়, মাদকের উৎস ও নেটওয়ার্ক শনাক্ত করেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ নেশাজাতীয় সিরাপসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে র্যাব-১২, সিপিসি-২ পাবনা। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ১৩৮ বোতল নিষিদ্ধ সিরাপ ও নগদ অর্থ।
র্যাব জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১০ মে) সন্ধ্যায় শাহজাদপুর থানার রুপপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে একজনকে আটক করা হয়েছে, যিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
র্যাব-১২ সূত্রে জানা যায়, রুপপুর এলাকায় এক ব্যক্তি অবৈধ নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন—এমন তথ্য পেয়ে দ্রুত অভিযান পরিকল্পনা করা হয়।
সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৩৫ মিনিটে কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট ওয়াহিদুজ্জামান (এস), বিএন-এর নেতৃত্বে র্যাবের একটি আভিযানিক দল সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়।
পরে তার কাছ থেকে ১৩৮ বোতল ইস্কাফ সিরাপ এবং নগদ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেছে র্যাব।
আটক ব্যক্তির নাম মো. আকছেদ আলী (৫২)। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার রুপপুর এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত হাজী শুকুর আলী বলে জানা গেছে।
র্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অবৈধ মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে কিছু তথ্য দিয়েছেন। তবে এসব তথ্য তদন্তাধীন থাকায় বিস্তারিত জানানো হয়নি।
র্যাব জানায়, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১৪(গ) ধারায় শাহজাদপুর থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
আটক ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই গোপনে নেশাজাতীয় দ্রব্য কেনাবেচার অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এসব মাদকের বিস্তার নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়ছিল।
তাদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি থাকলে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কসংলগ্ন এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু অভিযান নয়, একই সঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের বিকল্প সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাও জরুরি। না হলে মাদকবিরোধী লড়াই দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও দিতে পারে।
শাহজাদপুরের রুপপুর এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানের মাধ্যমে আবারও মাদক চক্রের সক্রিয়তার বিষয়টি সামনে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা—শুধু আটক নয়, মাদকের উৎস ও নেটওয়ার্ক শনাক্ত করেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন