২০২৬ বিশ্বকাপের আগে স্বস্তি, অবশেষে ইরান ফুটবল দলকে ভিসা দিল যুক্তরাষ্ট্র
অবশেষে বিশ্বকাপ খেলতে ইরান দলকে ভিসা দিল যুক্তরাষ্ট্র, কাটল বড় অনিশ্চয়তাবিশ্বকাপের মঞ্চে নামার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। অথচ অংশগ্রহণকারী একটি দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা আয়োজক দেশে প্রবেশ করতে পারবেন কি না, তা নিয়েই ছিল বড় প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিতে ইরানের জাতীয় ফুটবল দলকে ভিসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ম্যাচ শুরুর মাত্র ১০ দিন আগে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফিরেছে দলটির শিবিরে।[TECHTARANGA-POST:1560]
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে ভিসা অনুমোদন ঝুলে থাকায় ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিও ব্যাহত হয়েছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে দলটিকে তাদের নির্ধারিত প্রস্তুতি পরিকল্পনাও বদলাতে হয়।প্রস্তুতি ক্যাম্প সরাতে বাধ্য হয় ইরানভিসা জটিলতা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় ইরান তাদের প্রস্তুতি ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিজুয়ানায় স্থানান্তর করে। দলটির ৭ জুন সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের আগে প্রস্তুতি পরিকল্পনায় এমন পরিবর্তন যেকোনো দলের জন্যই বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের অনুশীলন, আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং ম্যাচ পরিকল্পনায় এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।যদিও ভিসা অনুমোদনের পর এখন ইরানের সামনে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য মাঠের লড়াইয়ে মনোযোগ দেওয়া।কঠিন গ্রুপে ইরানের চ্যালেঞ্জবিশ্বকাপের গ্রুপ-জি’তে জায়গা পেয়েছে ইরান। দলটির প্রথম ম্যাচ ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর একই শহরে শক্তিশালী বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা।গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইরান। ফুটবলপ্রেমীদের মতে, এই গ্রুপ থেকে পরবর্তী রাউন্ডে উঠতে হলে শুরু থেকেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে হবে দলটিকে।বিশেষ করে বেলজিয়াম ও মিসরের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভালো ফল করতে হলে প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি রাখার সুযোগ নেই।আইআরজিসি সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানভিসা অনুমোদনের খবরের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুরোপুরি শিথিল হয়নি। এর আগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বিশ্বকাপ প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাবেন না।[TECHTARANGA-POST:1523]তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কারণ, ক্রীড়া ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে বহুদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে থাকা উচিত। অন্যদিকে নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে বিভিন্ন দেশের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ।এ কারণে ভিসা ইস্যুটি শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিরল এক প্রেক্ষাপটএবারের বিশ্বকাপকে ঘিরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও অংশগ্রহণকারী দেশ ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনা।বিশ্বকাপের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৯৩০ সালে টুর্নামেন্ট শুরুর পর এই প্রথম এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে আয়োজক দেশের সঙ্গে অংশগ্রহণকারী একটি দেশের সরাসরি রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বিদ্যমান।আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রীড়া অনেক সময় দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগের একটি ইতিবাচক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। অতীতে বিভিন্ন বৈরী দেশের মধ্যেও ক্রীড়াঙ্গনে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হওয়ার নজির রয়েছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় নিরাপত্তা, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি বড় টুর্নামেন্টগুলোকেও প্রভাবিত করছে।কেন আলোচনায় এই ভিসা ইস্যু?বিশ্বকাপ শুধু একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা নয়; এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজনগুলোর একটি। ফলে অংশগ্রহণকারী কোনো দলের ভিসা জটিলতা স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে।এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক সমর্থক মনে করছেন, খেলোয়াড়দের মাঠে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ দেওয়া উচিত। আবার কেউ কেউ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার বিষয়টিও সামনে আনছেন।[TECHTARANGA-POST:1483]
তবে সব বিতর্কের মাঝেও একটি বিষয় পরিষ্কার—ইরান এখন বিশ্বকাপ খেলতে পারছে এবং তাদের সামনে রয়েছে মাঠে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ। রাজনৈতিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং ভিসা অনিশ্চয়তার অধ্যায় পেছনে ফেলে এখন ফুটবলই হয়ে উঠছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।