দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযান: ১৬ কেজি গাঁজা ও প্রায় ২ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

যশোর সীমান্তের একাধিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রবিবার পরিচালিত পৃথক অভিযানে ১৬ কেজি গাঁজা, ভারতীয় তৈরি পোশাক এবং বিপুল পরিমাণ বিদেশি চকলেট উদ্ধার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে তাদের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।সীমান্তজুড়ে বিশেষ অভিযানযশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (৩১ মে) জেলার সীমান্তবর্তী আন্দুলিয়া ও বেনাপোল বিওপি এলাকায় বিশেষ চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এসব অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিভিন্ন অবৈধ পণ্য উদ্ধার করা হয়।উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ১৬ কেজি গাঁজা, ৫২টি ভারতীয় তৈরি পোশাক এবং ১ হাজার ১০৫টি বিভিন্ন ধরনের বিদেশি চকলেট। বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, জব্দকৃত এসব পণ্যের মোট বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা।[TECHTARANGA-POST:1527]মাদক ও চোরাচালান ঠেকাতে কড়া নজরদারিবিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান চক্র সক্রিয় থাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যশোর সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ পণ্য পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। ফলে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন পয়েন্টে টহল জোরদার করা হয়েছে।যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের অভিযান—সবকিছু সমন্বয় করেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশের চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও বিজিবির নিয়মিত অভিযানের ফলে অনেক চালান জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে।কেন উদ্বেগ বাড়ছে?বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান গুরুত্বপূর্ণ হলেও পাচারকারীরা প্রায়ই নতুন কৌশল ব্যবহার করে। ফলে শুধু অভিযান নয়, স্থানীয় জনগণের সচেতনতা এবং তথ্য সহযোগিতাও অত্যন্ত প্রয়োজন।মাদক ব্যবসা শুধু অপরাধই নয়, এটি সামাজিক অস্থিরতা ও যুবসমাজের জন্য বড় হুমকি তৈরি করে। অন্যদিকে চোরাচালান দেশের বৈধ ব্যবসা, রাজস্ব আয় এবং বাজার ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।সীমান্তে চলবে অভিযানবিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে।তবে এই ঘটনায় কোনো ব্যক্তি আটক হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।সীমান্ত সুরক্ষা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে বিজিবির চলমান অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ড অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযান: ১৬ কেজি গাঁজা ও প্রায় ২ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ