স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোনো কলঙ্ক নিতে চায় না সরকার: মীর শাহে আলম
স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে সরকার কোনো ধরনের কলঙ্ক নিতে চায় না। চলতি অর্থবছরের জুনের মধ্যে পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনগুলো আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত নির্বাচনী তারিখ নির্ধারণের সুযোগ থাকলে তা কাজে লাগিয়ে আগামী জুনের মধ্যে সব নির্বাচন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।মীর শাহে আলম জানান, চলতি অর্থবছরের মধ্যে পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যে নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত না হলে বরাদ্দের অর্থ অব্যবহৃত থেকে যাবে এবং পরবর্তী অর্থবছরে চলে যাবে।তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনই জানাতে পারবে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।তিনি বলেন, সরকার বিনয়ের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে আগামী জুনের মধ্যে নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে।স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচনে সরকার ও প্রশাসন বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করবে না। সব প্রার্থীর সমান অধিকার নিশ্চিত করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার কোনো ধরনের কলঙ্ক নিতে রাজি নয়। নির্বাচন যেন উৎসবমুখর পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখা এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার তার অবস্থানে অটল রয়েছে।গ্রাম পুলিশের আইনগত ক্ষমতা, বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়েও প্রস্তাবনা চেয়েছে সরকার বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।তিনি বলেন, গ্রাম পুলিশ আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। তাদের আইনগত ক্ষমতা, বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে প্রস্তাবনা চাওয়া হয়েছে।আগামী ৭ নভেম্বর গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মহাসমাবেশে তাঁদের চাওয়া-পাওয়া, প্রত্যাশা ও দাবিগুলো জানার সুযোগ থাকবে। এসব দাবি ও প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ৭ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।সমাবেশে সারা দেশ থেকে প্রায় ৫০ হাজার গ্রাম পুলিশ সদস্য অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।মহাসমাবেশে গ্রাম পুলিশের সদস্যদের দাবি ও প্রত্যাশা সরাসরি শোনার পাশাপাশি তাঁদের বেতন, সুযোগ-সুবিধা এবং আইনগত ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।