সালমান শাহ হত্যা মামলা: ডনের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছে সিআইডি, শুনানি ২৭ আগস্ট
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনটি কারণ দেখিয়েছে তদন্ত সংস্থা।সিআইডির রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি হবে আগামী ২৭ আগস্ট। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা ডনের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ওই দিন ধার্য করেছেন।রিমান্ড আবেদনে সিআইডি বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন ও রহস্য রয়েছে। ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছে তদন্ত সংস্থা।সিআইডির আবেদনে মূলত তিনটি কারণ তুলে ধরা হয়েছে।প্রথমত, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে থাকা রহস্যের বিষয়ে ডনকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় তদন্ত সংস্থা। ১৯৯৬ সালে মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে হত্যা মামলা হিসেবে তদন্তাধীন থাকায় তাঁর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে সিআইডি।দ্বিতীয়ত, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের সম্পর্কে তথ্য বের করার চেষ্টা করা হবে। তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রেও ডনের জিজ্ঞাসাবাদ সহায়ক হতে পারে বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তৃতীয়ত, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ডন কীভাবে এবং কার ইন্ধনে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, সে বিষয়ে তথ্য জানতে চায় সিআইডি।গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাঁকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।ওই দিনই তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ১২ আগস্ট তাঁর জামিনের আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন।গত ২০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান আদালতে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।সোমবার প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম জানান, ওই আবেদনের শুনানির জন্য ২৭ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় মারা যান।তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেন বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।পরের বছর ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি। আদালতের নির্দেশে অপমৃত্যু ও হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্ত করে সিআইডি।১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সিআইডি সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করে।তবে ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন সালমান শাহর বাবা। পরে তাঁর মৃত্যুর পর মামলাটি পরিচালনা করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর।সবশেষ আদালতের নির্দেশের পর গত ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহ হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় তাঁর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ।তবে মামলায় আসামি হওয়া মানেই তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।গুরুত্বপূর্ণ দিকডনের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে সিআইডি।রিমান্ড আবেদনের শুনানি ২৭ আগস্ট।ডনকে ৯ আগস্ট শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।সালমান শাহ মারা যান ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬।মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।ডনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর হবে কি না, সেটি নির্ধারণ করবেন আদালত। রিমান্ড মঞ্জুর হলে তদন্তকারীরা সালমান শাহর মৃত্যু, সম্ভাব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ডনের বিদেশযাত্রার চেষ্টা নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন।এর পাশাপাশি সালমান শাহর মরদেহের দেহাবশেষ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের বিষয়টিও তদন্তের অংশ হিসেবে সামনে এসেছে। এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়েছে বলে জানা গেছে।নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: দীর্ঘদিনের এই মামলায় এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—পুরোনো অভিযোগ ও নতুন তদন্তে পাওয়া তথ্যের মধ্যে মিল-অমিল কোথায়। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ ও তদন্তের ফলই শেষ পর্যন্ত সালমান শাহর মৃত্যুর বিষয়ে গ্রহণযোগ্য উত্তর দিতে পারে।সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বহু বছর ধরে মানুষের আগ্রহ রয়েছে। তাই নতুন তদন্তের প্রতিটি ধাপ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে কৌতূহল তৈরি হচ্ছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো দাবি বা অনুমানকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে না ধরে তদন্ত সংস্থা ও আদালতের নথিভুক্ত তথ্যের ওপর নির্ভর করাই নিরাপদ।