রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শিক্ষার্থীদের একাডেমিক বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। একই সঙ্গে তারা সারাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপদভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। এই দাবি ঘিরে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এ সময় পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত একটি কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের প্রায় ১০০ গজ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল। সকাল থেকেই সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ঘটে হামলার ঘটনা, যা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাকর্মী কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে আগের প্রশাসনের সময়কার আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে কথা বলতে চান। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে শিক্ষকদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এর কিছুক্ষণ পর একই দলের আরও কয়েকজন এসে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন শিক্ষকের ওপর হামলা চালান। হামলার সময় অফিস কক্ষে ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় কলেজ ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীরাও উদ্বেগের মধ্যে পড়ে যায়। হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ আরও কয়েকজন কর্মচারী। আহতদের কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে কলেজে এসে কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন সময় হিসাব চাওয়ার নামে চাপ সৃষ্টি করছিলেন। তার ভাষায়, মূলত এটি ছিল চাঁদার দাবি। তিনি বলেন, অধ্যক্ষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করায় তাকেও হামলার শিকার হতে হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় নেতা আকবর আলী এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা আগের প্রশাসনের কিছু অনিয়মের বিষয়ে হিসাব চাইতে গিয়েছিলেন। তার দাবি, তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং প্রথমে তাদের ওপরই হামলা করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি এক বিবৃতিতে জানায়, সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি সাংবাদিকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। তাই দ্রুত হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে একাডেমিক ব্যবস্থাও নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাস ও জাতীয় পর্যায়ে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় বিভিন্ন বিষয়ে অবস্থান নিয়ে আসছে। অতীতেও সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা হয়রানির ঘটনায় সংগঠনটি প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে। এছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্র এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকলে সাধারণত সেখানে চারজনের বেশি লোক একসঙ্গে জমায়েত হওয়া নিষিদ্ধ থাকে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায়। সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর শিক্ষাঙ্গন ও সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দ্রুত সঠিক তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি কমবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।