চিফ হুইপের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদলের বৈঠক, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে চিফ হুইপের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের গণতান্ত্রিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সংসদীয় কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র মিশনের উপপ্রধান মেগান বলডিন, রাজনৈতিক উপদেষ্টা এরিক গিলান এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক উঠে আসে।গণতন্ত্র ও সংসদীয় কার্যক্রম নিয়ে আলোচনাসাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রগতি, গণতন্ত্রের চর্চা এবং জাতীয় সংসদের কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় হয়। এছাড়া জাতীয় সংসদের অধিবেশন পরিচালনা, সংসদ ভবনের কার্যক্রম এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।[TECHTARANGA-POST:1389]চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার অংশীদার হিসেবে সহযোগিতা করে আসছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার প্রত্যাশাবৈঠকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অন্যতম বড় বাজার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তিনি আরও বলেন, সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, সেখানে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।তার ভাষায়, ডিজিটাল খাতে দক্ষ জনবল তৈরি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমর্থন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে ইতিবাচক ফল দিতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।[TECHTARANGA-POST:1358]সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন চিফ হুইপসাক্ষাৎকালে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও কথা বলেন চিফ হুইপ। তিনি দাবি করেন, সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।এ সময় তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কৃষিঋণ মওকুফের মতো উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। এসব কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।চিফ হুইপ আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সরকার বিভিন্ন খাতে কাজ করছে। তবে এই প্রক্রিয়া টেকসই করতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা জরুরি।কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ইঙ্গিতবিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা বাড়ছে। এই ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সক্রিয় রাখার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:1351]বিশেষ করে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শ্রমবাজার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও বৈঠকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি, তবে উভয় পক্ষ সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বর্তমানে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংলাপও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বৈঠক আরও বাড়তে পারে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।