১৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, ফরিদপুরে আসামির ৫ বছরের কারাদণ্ড
ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ১৩ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় ইসমাইল মোল্লা (৫৬) নামের এক ব্যক্তিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুপুর ৩টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের একটি গ্রামে মুদি দোকানের পাশের পুকুর থেকে পানি নিয়ে বাড়ি ফিরছিল শিশুটি।এ সময় ইসমাইল মোল্লা শিশুটিকে দোকানঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়।ঘটনার পর বাড়িতে ফিরে শিশুটি তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়। পরে ২১ ডিসেম্বর শিশুটির বাবা নগরকান্দা থানায় মামলা করেন। মামলায় ইসমাইল মোল্লাকে একমাত্র আসামি করা হয়।মামলাটি তদন্ত শেষে নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইরানুল ইসলাম ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম শেষে বৃহস্পতিবার আদালত আসামিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। জরিমানা পরিশোধ না করলে তাকে অতিরিক্ত এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।তিনি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ মামলার রায়ে তারা সন্তুষ্ট।বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের অভিজ্ঞতা বা বিপদের কথা অন্যদের জানাতে বাড়তি সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করতে পারে। তাই পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় পর্যায়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে শোনার ব্যবস্থা থাকা জরুরি।শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতার অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ, সংবেদনশীল তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় শিশুর মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।