মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৯, উদ্ধার দুই ট্রাক মালামাল
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি’ সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একই ঘটনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ডিএমপির পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, রাতের আঁধারে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সময় কার্যালয়ের আসবাব, চিকিৎসা সামগ্রী এবং নিয়মিত টিকাদানের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম লুট করা হয়।ঘটনার পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম ও সেখানে থাকা চিকিৎসা-সংক্রান্ত সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বাদী হয়ে রাজধানীর শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন।মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।মামলায় অনধিকার প্রবেশ, লুটপাট, প্রাণনাশের হুমকি এবং প্রায় দেড় কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।তবে মামলায় করা অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রায় ১০ কাঠা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।স্থানীয় সংসদীয় আসনের বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যও জমিটি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তে পরিষ্কার হওয়ার কথা।ডিএমপি জানিয়েছে, অভিযানের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত আরও ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।এ ঘটনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সম্পত্তি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম লুটের অভিযোগের পাশাপাশি হামলার পেছনে কারা ছিল এবং তাদের উদ্দেশ্য কী—সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।