মিরপুরে ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী নারীর মরদেহ উদ্ধার, কয়েকদিন পর জানাজানি
রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহটি পচন ধরায় ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর বেশ কয়েকদিন পর বিষয়টি সামনে আসে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই বৃদ্ধা দীর্ঘদিন ধরে ফ্ল্যাটে একাই বসবাস করতেন। প্রতিবেশীরা কয়েকদিন ধরে তাকে দেখতে না পেয়ে এবং ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ বের হতে টের পেয়ে বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা খুলে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।[TECHTARANGA-POST:1536]দুর্গন্ধ থেকেই সন্দেহপ্রতিবেশীদের দাবি, কয়েকদিন ধরে ফ্ল্যাট থেকে অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ আসছিল। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না পেলেও পরে দুর্গন্ধ বাড়তে থাকলে তারা পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ এসে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে বৃদ্ধার মরদেহ দেখতে পায়।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর পর কয়েকদিন কেটে যাওয়ায় মরদেহে পচন ধরে। তবে তিনি ঠিক কবে, কখন এবং কীভাবে মারা গেছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি কেউ।নানা আলোচনা, তবে তদন্ত চলছেঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ বলছেন, বৃদ্ধার সন্তানরা দেশের বাইরে বা অন্যত্র থাকতেন এবং নিয়মিত যোগাযোগ করতেন না। তবে এসব তথ্যের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।একাকীত্বের নির্মম বাস্তবতাসমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, নগরজীবনে একাকী বসবাসকারী প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। অনেক সময় পরিবার, আত্মীয়স্বজন বা প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ না থাকায় অসুস্থতা কিংবা দুর্ঘটনার মতো ঘটনা দ্রুত জানা যায় না।বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবীণদের জন্য নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া, সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা এবং স্থানীয়ভাবে সহায়তা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা জরুরি। অন্যথায় এমন মর্মান্তিক ঘটনার ঝুঁকি থেকে যায়।প্রশাসনের বক্তব্যের অপেক্ষাএই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটি রহস্যজনক মৃত্যু হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল, ব্যস্ত নগরজীবনের ভিড়ে অনেক প্রবীণ মানুষ নীরবে ও একাকী জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের নিরাপত্তা, সঙ্গ এবং নিয়মিত খোঁজখবর নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের নয়, সমাজেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।