দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

লাইফ সাপোর্টে’ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি, ট্রাম্পের কড়া বার্তায় বাড়ছে উত্তেজনা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দাবি করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন প্রায় “লাইফ সাপোর্টে” রয়েছে। তেহরানের দেওয়া কয়েকটি শর্ত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সমঝোতা ভেঙে গেলে আবারও কঠোর পদক্ষেপে যেতে পারে ওয়াশিংটন।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে শুরু হওয়া আলোচনা এখন নতুন করে জটিল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ক্ষতিপূরণ, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং Strait of Hormuz ঘিরে ইরানের অবস্থানকে কেন্দ্র করে দুই দেশের দূরত্ব আরও বেড়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো দাবি করছে।তেহরানের কঠোর অবস্থান, ওয়াশিংটনের পাল্টা প্রতিক্রিয়াশান্তি আলোচনায় ইরান কয়েকটি স্পষ্ট দাবি সামনে এনেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতে তাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান।[TECHTARANGA-POST:1199]এছাড়া বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ Strait of Hormuz–এর ওপর নিজেদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নেও অনড় অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এটি তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অধিকারের অংশ।তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব দাবিকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন। তার অভিযোগ, ইরান এমন কিছু শর্ত দিচ্ছে যা বাস্তবসম্মত নয় এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলছে। মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখলেও ইরানের অবস্থান পরিস্থিতিকে দ্রুত জটিল করে তুলছে।তেলের বাজারে অস্থিরতাএই উত্তেজনার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। বিশেষ করে Strait of Hormuz দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে।বাজার বিশ্লেষকদের দাবি, সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় উল্লম্ফন হিসেবে দেখা হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হলে শুধু তেলের দাম নয়, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি এবং পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।নতুন নিষেধাজ্ঞার পথে যুক্তরাষ্ট্রওয়াশিংটন ইতোমধ্যে ইরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক চাপ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যারা অবৈধ উপায়ে ইরানি তেল চীনে রপ্তানিতে সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে।[TECHTARANGA-POST:1210]মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এসব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরান বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। তাই অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে নমনীয় করতে চায় ওয়াশিংটন।অন্যদিকে ইরান বলছে, এসব নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির পরিপন্থী। দেশটির কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক চাপ তৈরির জন্য অর্থনৈতিক অস্ত্র ব্যবহার করছে।সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা কতটাইরান সরকার জানিয়েছে, বিদেশি আগ্রাসন মোকাবিলায় তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কড়া বার্তা এসেছে। হোয়াইট হাউস ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, দ্রুত সমঝোতা না হলে নতুন সামরিক বা অর্থনৈতিক পদক্ষেপ বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।যদিও এখনো সরাসরি যুদ্ধের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও বিশ্লেষকরা বলছেন, উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে দ্রুত সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগমধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে গেলে এর প্রভাব শুধু আঞ্চলিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও বড় ধাক্কা লাগতে পারে।বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ চালু রাখা। কারণ সরাসরি আলোচনা বন্ধ হয়ে গেলে ভুল বোঝাবুঝি বা সামরিক উত্তেজনা আরও দ্রুত বাড়তে পারে।[TECHTARANGA-POST:1184]সামনে কী হতে পারেবর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। একদিকে ইরান তাদের দাবিতে অনড়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না। ফলে যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে নাকি নতুন সংঘাত শুরু হবে—তা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে আসন্ন কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, উভয় পক্ষ শেষ পর্যন্ত সরাসরি পূর্ণাঙ্গ সংঘাতে যেতে চাইবে না। কারণ সামরিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষতি দুই দেশের জন্যই বড় হয়ে দাঁড়াতে পারে।

লাইফ সাপোর্টে’ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি, ট্রাম্পের কড়া বার্তায় বাড়ছে উত্তেজনা