নিখোঁজের ৩ বছর পর সেপটিক ট্যাংকে মিলল কৃষকের কঙ্কাল
হবিগঞ্জের মাধবপুরে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিন বছর পর মহব্বত আলী (৩৯) নামে এক কৃষকের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একটি ফোনকলের রেকর্ডের সূত্র ধরে দীর্ঘ তদন্তের পর শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার রামনগর গ্রামের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে তাঁর কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একই গ্রামের শাহ আলম (৪২) ও তাঁর স্ত্রী জাহানারা বেগমকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।পুলিশ জানায়, নিহত মহব্বত আলী মাধবপুর উপজেলার রামনগর গ্রামের বিলাত আলীর ছেলে। কৃষিকাজের পাশাপাশি তিনি সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন।২০২৩ সালের ৩০ জুলাই তিনি নিখোঁজ হন। এরপর তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় তাঁর ভাই রুসমত আলী মাধবপুর থানায় মামলা করেন।মহব্বত আলীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে একটি ফোনকলের রেকর্ডের সূত্র পান গোয়েন্দারা। ওই সূত্র ধরে দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তদন্তের পর শাহ আলম ও তাঁর স্ত্রী জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে রামনগর গ্রামের একটি সেপটিক ট্যাংকে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে মহব্বত আলীর কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইদুর রহমান জানান, ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই মহব্বত আলী নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তাঁর ভাই থানায় মামলা করেছিলেন।দীর্ঘ তদন্তের পর দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেপটিক ট্যাংক থেকে কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।তবে মহব্বত আলী কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন, তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয়ে তদন্তের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।একজন কৃষকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তিন বছর পর কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়ার পর ফোনকলের রেকর্ডের সূত্র ধরে তদন্তে অগ্রগতি আসে।এখন উদ্ধার হওয়া কঙ্কালের পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।