দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

দক্ষিণখানে মসজিদের একমাত্র যাতায়াত পথ বন্ধের অভিযোগ, ক্ষোভ স্থানীয় মুসল্লীদের

রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় একটি মসজিদে মুসল্লীদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত পথটি হঠাৎ করে ইটের গাঁথুনি দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ায় নিয়মিত নামাজ ও ধর্মীয় কার্যক্রমে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে সাইয়্যেদুস সাক্বালাইন জামে মসজিদ এলাকায়। মসজিদটি আশকোনা পূর্ব পাড়ার কালভার্ট সংলগ্ন দক্ষিণ পাশে অবস্থিত।স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর ধরে মুসল্লীরা উক্ত পথ ব্যবহার করে মসজিদে যাতায়াত করে আসছিলেন। এলাকাবাসীর দাবি, পথটি দীর্ঘদিন শান্তিপূর্ণ ও প্রকাশ্যভাবে ব্যবহৃত হওয়ায় এটি কার্যত একটি প্রতিষ্ঠিত চলাচলের রাস্তা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।হঠাৎ দেয়াল তুলে পথ বন্ধের অভিযোগস্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না রেখেই রাস্তার ওপর ইটের গাঁথুনি দিয়ে বাউন্ডারি নির্মাণ করা হয়। ফলে মুসল্লীদের মসজিদে যাতায়াতে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।এলাকাবাসীর দাবি, গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দক্ষিণখান থানার দুই পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও মুসল্লীদের সামনে সংশ্লিষ্ট জমির মালিক ডাঃ মারওয়ান কবির মুসল্লীদের চলাচলের জন্য রাস্তা রেখে বাউন্ডারি নির্মাণে সম্মতি দিয়েছিলেন।স্থানীয়রা বলছেন, সে সময় বিষয়টি নিয়ে একটি সামাজিক সমঝোতা তৈরি হয়েছিল। এমনকি রাস্তার অপর পাশের জমির মালিকও মুসল্লীদের স্বার্থে কিছু জায়গা ছেড়ে দেন বলে দাবি করা হয়েছে।তবে পরে পূর্বের সেই সম্মতি উপেক্ষা করে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সম্পূর্ণভাবে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।মুসল্লীদের অনুরোধেও সাড়া মেলেনিএলাকাবাসীর ভাষ্য, একই দিন জুমার নামাজের পর মুসল্লীরা শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তা পুনরায় খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।এর পর থেকেই এলাকায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে। অনেকে বলছেন, একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার একমাত্র পথ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা সামাজিকভাবে উদ্বেগজনক।তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য মেলেনি।ধর্মীয় অধিকার ও মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্নঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় সচেতন মহল ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের বিষয়টি সামনে আনছেন। তাদের দাবি, সংবিধানে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ও চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে একটি মসজিদে প্রবেশের একমাত্র পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ধর্মীয় উপাসনালয়ে যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকেও উদ্বেগজনক।কিছু আইনজ্ঞের মতে, দীর্ঘদিন ব্যবহৃত কোনো পথ হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া এবং পূর্বের সামাজিক সমঝোতা অমান্য করা নিয়ে আইনগত জটিলতাও তৈরি হতে পারে। যদিও বিষয়টি আদালত বা প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবিএলাকাবাসী ও মুসল্লীরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করে মসজিদে যাতায়াতের পথ পুনরায় উন্মুক্ত করা হোক।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে পারে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।তাদের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এমন বিরোধ দ্রুত সমাধান করা জরুরি, যাতে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকে এবং সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবে ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করতে পারেন।সামাজিক সম্প্রীতির প্রশ্নবিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় জমি ও চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধ প্রায়ই দেখা যায়। তবে ধর্মীয় উপাসনালয়ের প্রবেশপথ ঘিরে বিরোধ সৃষ্টি হলে সেটি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন।তাদের মতে, সংলাপ, স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যস্থতা এবং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই এ ধরনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। সব মিলিয়ে, দক্ষিণখানের আশকোনা এলাকার এই ঘটনা এখন স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মুসল্লীরা আশা করছেন, প্রশাসনের উদ্যোগে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে এবং মসজিদে যাতায়াতের পথ পুনরায় চালু করা হবে।

দক্ষিণখানে মসজিদের একমাত্র যাতায়াত পথ বন্ধের অভিযোগ, ক্ষোভ স্থানীয় মুসল্লীদের