দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

মদিনায় ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা বাংলাদেশের, সৌদি আরবের পাশে থাকার বার্তা

পবিত্র নগরী মদিনায় সৌদি আরবের তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। গুরুত্বপূর্ণ এই বেসামরিক অবকাঠামোটি মসজিদে নববীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ।রোববার (৪ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশের পূর্ণ সংহতির কথা জানানো হয়েছে।বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকার জানায়, সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।বাংলাদেশের মতে, মসজিদে নববীকে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদার ওপর অগ্রহণযোগ্য আঘাত।পবিত্র স্থান ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলার মতো কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্যও উদ্বেগ তৈরি করে বলে বিবৃতিতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।বিবৃতিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশের পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করা হয়েছে।বাংলাদেশ বলেছে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করে—এমন যেকোনো আগ্রাসনমূলক কর্মকাণ্ড তারা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে।মদিনার মতো ইসলামের অন্যতম পবিত্র নগরীতে এ ধরনের ঘটনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এই অবস্থান সৌদি আরবের সঙ্গে দেশটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টিও সামনে এনেছে।মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার জন্য ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।জোটের দাবি, ড্রোন হামলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রটির একটি ট্রান্সফরমার অকেজো হয়ে পড়ে। তবে এতে সৌদি আরবের সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়েনি বলে দাবি করেছে তারা।তবে হামলার দায় সরাসরি অস্বীকার করেছে হুথি গোষ্ঠী। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের কোনো হামলা তারা চালায়নি।ফলে হামলার দায় কার—এ বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া কোনো পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।মদিনা মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পবিত্র নগরী। সেখানে বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠায় ধর্মীয় স্থাপনা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।বিশেষ করে মসজিদে নববীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনার বিদ্যুৎ সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত অবকাঠামো কোনো সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে পড়লে তার ঝুঁকি শুধু একটি স্থাপনা বা এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক ধর্মীয় কার্যক্রমও জড়িত।

মদিনায় ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা বাংলাদেশের, সৌদি আরবের পাশে থাকার বার্তা