ডুয়েটে নতুন ভিসি নিয়োগ ঘিরে উত্তেজনা, রাতভর বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা
জীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এ নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সরকার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরপরই তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ-মিছিল ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে।শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েটের মতো বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাইরের কেউ নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া উচিত। তাদের ভাষ্য, অভ্যন্তরীণ শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং শিক্ষার্থীদের চাহিদা সম্পর্কে বেশি অভিজ্ঞ।প্রজ্ঞাপন জারির পরই ক্ষোভনতুন ভিসি নিয়োগের খবর প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে মিছিল বের করেন।[TECHTARANGA-POST:1275]মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঢাকা-শিমুলতলী আঞ্চলিক সড়কে গিয়ে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে কিছু সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান এবং “ডুয়েটের ভিসি ডুয়েট থেকেই চাই”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভ চলাকালে ক্যাম্পাস এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলেও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তবতা বুঝতে হবে’বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ডুয়েটের শিক্ষা কাঠামো দেশের অন্যান্য সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় ভিন্ন। এখানকার অধিকাংশ শিক্ষার্থী ডিপ্লোমা প্রকৌশল শিক্ষা শেষ করে ভর্তি হন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক বাস্তবতাও আলাদা।তাদের মতে, অভ্যন্তরীণ শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে তুলনামূলক বেশি ধারণা রাখেন।এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা ব্যক্তিগতভাবে কারও বিরুদ্ধে নই। তবে ডুয়েটের মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব এমন কারও হাতে থাকা উচিত, যিনি এখানকার বাস্তবতা ভেতর থেকে জানেন।”আরেক শিক্ষার্থী দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক নেতৃত্বের পক্ষে মত দিয়ে আসছেন। নতুন নিয়োগে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলেই আন্দোলন তৈরি হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:1270]শিক্ষক সমিতিরও একই দাবিশুধু শিক্ষার্থীরাই নন, এর আগে ডুয়েট শিক্ষক সমিতিও অভ্যন্তরীণ শিক্ষক থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়েছিল। শিক্ষক সমিতির এক জরুরি সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্য থেকে ভিসি নিয়োগের বিষয়ে মত দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।তবে এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ভিসির পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।রাত ১১টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিকবিক্ষোভের সময় সড়কে যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।গাজীপুর সদর মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, নতুন ভিসি নিয়োগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। রাত ১১টার দিকে তারা সড়ক ছেড়ে ক্যাম্পাসে ফিরে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে নজরদারি রাখা হয়েছিল এবং পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবেই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্ব প্রশ্নে নতুন বিতর্কডুয়েটে ভিসি নিয়োগ নিয়ে সাম্প্রতিক এই আন্দোলন আবারও দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা সামনে এনেছে। বিশেষ করে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অভ্যন্তরীণ নাকি বহিরাগত—কাকে নেতৃত্বে আনা হবে, তা নিয়ে ভিন্নমত দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে।শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করেন, বাইরের অভিজ্ঞ শিক্ষকরাও প্রশাসনিক দক্ষতা ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসতে পারেন। অন্যদিকে অনেকের মতে, নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক সংস্কৃতি ও একাডেমিক বাস্তবতা বুঝতে অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের আলোচনার মাধ্যমে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে একাডেমিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে।এখন কী হতে পারেশিক্ষার্থীরা আপাতত তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন—তারা অভ্যন্তরীণ শিক্ষক থেকে ভিসি নিয়োগ চান। তবে সরকার ঘোষিত প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।[TECHTARANGA-POST:1212]বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক বা আলোচনার ঘোষণা না এলেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে ক্যাম্পাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও শিক্ষার্থীদের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।