৪৫ বছর পরও স্মরণে জিয়া: রাজধানীতে দুঃস্থদের পাশে বিএনপির নেতাকর্মীরা
আজ ৩০ মে, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান, বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদৎবার্ষিকী। দিনটি উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্মরণ ও মানবিক কর্মসূচির আয়োজন করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে কাপড়, চাল, ডালসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।শনিবার দিনব্যাপী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন থানা এলাকায় এই কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। আয়োজকদের দাবি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:1516]স্মরণ আর সেবার সমন্বয়শাহাদৎবার্ষিকী ঘিরে রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা তুলে ধরতে চেয়েছেন আয়োজকরা। বিভিন্ন এলাকায় আগে থেকেই সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুত করা হয়। পরে তাদের হাতে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও কাপড় তুলে দেওয়া হয়।উপকারভোগীদের মধ্যে অনেকে বলেন, বর্তমান সময়ে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। এমন সহায়তা তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।রাজধানীর বিভিন্ন থানায় কর্মসূচিআয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের একাধিক থানা এলাকায় পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছিল। পাশাপাশি অনেক পরিবারের মাঝে পোশাকও বিতরণ করা হয়েছে।স্থানীয় নেতারা জানান, শুধুমাত্র রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করার সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যেই তারা এমন কর্মসূচি পালন করে থাকেন। দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারবাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়াউর রহমান একটি আলোচিত নাম। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার ভূমিকা এবং পরবর্তী সময়ে দেশের রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা হয়ে আসছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন, দেশের স্বাধীনতা, জাতীয়তাবাদী চেতনা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ।অন্যদিকে ইতিহাস ও রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জিয়াউর রহমানের প্রভাব এখনো দৃশ্যমান। তার শাহাদৎবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি পালন করা হয়।মানবিক কর্মসূচির সামাজিক গুরুত্বসামাজিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় দিবস বা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের স্মরণে যখন জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়, তখন তা সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তায় এমন উদ্যোগ সামাজিক সংহতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।তবে তারা মনে করেন, একদিনের সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রম আরও বেশি কার্যকর হতে পারে। তারপরও সংকটময় সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্বের অংশ।দিনজুড়ে শ্রদ্ধা ও স্মরণ৪৫তম শাহাদৎবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি পালন করছে। দোয়া, আলোচনা সভা, কোরআনখানি, গণমানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দলটির প্রতিষ্ঠাতাকে স্মরণ করা হচ্ছে।নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।