বাঞ্ছারামপুরে অটোচালক হত্যা: দুই সপ্তাহ পেরোলেও রহস্য উদঘাটন হয়নি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে অটোরিকশাচালক সবুজ মিয়া (৩৮) হত্যার প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও এখনো রহস্যের জট খুলতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার আগে প্রকাশ্যে ঝগড়া, মারামারি ও হত্যার হুমকির অভিযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এদিকে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি পলাতক থাকায় হত্যাকাণ্ড ঘিরে এলাকাজুড়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।নিহতের পরিবার বলছে, ঘটনার আগে যাদের সঙ্গে সবুজ মিয়ার বিরোধ হয়েছিল, তাদের খুঁজে বের করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেক অজানা তথ্য সামনে আসতে পারে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এবং সন্দেহভাজনদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।[TECHTARANGA-POST:1531]ভাড়ার টাকা নিয়ে বিরোধ, এরপর সংঘর্ষস্থানীয় সূত্র ও পরিবার সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২১ মে বিকেলে অটোরিকশার ভাড়ার টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে সবুজ মিয়ার সঙ্গে পাশ্ববর্তী রুপসদী ইউনিয়নের হোগলাকান্দি গ্রামের কয়েকজনের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় শাহাবুদ্দিন ও জিহাদ মিয়াসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয় বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঝগড়ার সময় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, ওই সময় সবুজ মিয়াকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।রাতের ঝগড়ার পর রহস্যজনক নিখোঁজপরিবারের সদস্যদের দাবি, বিকেলের ঘটনার পর রাতেও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে সবুজ মিয়ার দ্বিতীয় দফায় কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। এরপর রাত ৯টার দিকে তিনি আগরবাতি কেনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন।কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে তার জীবনের শেষ পথচলা।রাত পেরিয়ে গেলেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। নিখোঁজের ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।দুই দিন পর ডোবায় মিলল মরদেহনিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর, ২৩ মে সকালে খাককান্দা গ্রামের পূর্বপাড়া কবরস্থান সংলগ্ন একটি ডোবা থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করে জানান, এটি সবুজ মিয়ার মরদেহ। ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একজন সাধারণ অটোচালকের এমন মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়ে।ছেলের প্রশ্ন—“জড়িত না থাকলে পালিয়ে বেড়াচ্ছে কেন?”নিহতের ছেলে তানভীর ওরফে মহিন মিয়া বাবার হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, তাদের পরিবার অত্যন্ত অসহায় অবস্থার মধ্যে রয়েছে।তার ভাষ্য, বাবার সঙ্গে যাদের ঝগড়া হয়েছিল, তাদের কয়েকজন ঘটনার পর থেকে এলাকায় নেই। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, তারা যদি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না হন, তাহলে আত্মগোপনে রয়েছেন কেন?তিনি বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। আমার বাবাকে যারা হত্যা করেছে, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। প্রশাসনের কাছে আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”পলাতক সন্দেহভাজনদের নিয়ে বাড়ছে আলোচনাএলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার পর থেকেই কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছেন না। তারা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।স্থানীয়দের মতে, তদন্তের স্বার্থে এসব ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ ও ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।তবে এখন পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে অভিযুক্ত করেনি। ফলে বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে।কী বলছে পুলিশ?নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিয়াশ বসাক জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।তিনি বলেন, “ঘটনাস্থলে আমি নিজে উপস্থিত ছিলাম। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের মুখোমুখি করা হবে। আশা করছি দ্রুতই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি পাওয়া যাবে।”[TECHTARANGA-POST:1490]বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াছিন মিয়াও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।তার ভাষ্য, “তদন্ত চলমান রয়েছে। কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি বর্তমানে পলাতক। তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। আমরা বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছি।”কেন উদ্বেগ বাড়ছে?স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ এলাকায় ছোটখাটো বিরোধ থেকে বড় ধরনের সংঘাতের ঘটনা নতুন নয়। তবে কোনো ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরে রহস্য উদঘাটন না হলে মানুষের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।সবুজ মিয়ার পরিবার যেমন দ্রুত বিচার চায়, তেমনি এলাকাবাসীও চায় প্রকৃত ঘটনা সামনে আসুক। কারণ একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে সমাজে ভয়, গুজব এবং অবিশ্বাস আরও বাড়তে পারে।
দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সবুজ মিয়া হত্যার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের পরিচয় স্পষ্ট না হওয়ায় নিহতের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।