জবিতে বৃহস্পতিবারের অনলাইন ক্লাস বন্ধের সিদ্ধান্ত, ৭ জুন থেকে ফিরছে পূর্ণাঙ্গ সশরীরে ক্লাস
জবিতে বৃহস্পতিবারের অনলাইন ক্লাস বন্ধ, ৭ জুন থেকে পুরোপুরি সশরীরে পাঠদানবৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে চালু থাকা বৃহস্পতিবারের অনলাইন ক্লাস ব্যবস্থা এবার বন্ধ হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jagannath University)। আগামী ৭ জুন ঈদুল আজহার ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়টি ফিরছে সম্পূর্ণ সশরীরে ক্লাসে।[TECHTARANGA-POST:1425]বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিনের অনলাইন-অফলাইন মিশ্র শিক্ষাব্যবস্থার একটি অধ্যায় শেষ হতে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে যেমন স্বস্তি রয়েছে, তেমনি কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে।জ্বালানি সংকট থেকে স্বাভাবিকতায় ফেরার ঘোষণাবিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২০ মে) অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ৭৯তম জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।সভায় বলা হয়, অতীতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব সরাসরি পড়েছিল দেশের শিক্ষা কার্যক্রমেও। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠতে সেই সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যেন থেমে না যায়, সে জন্য বৃহস্পতিবারকে অনলাইন ক্লাসের দিন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল।কিন্তু এখন জ্বালানি পরিস্থিতি অনেকটাই স্থিতিশীল হওয়ায় সেই জরুরি ব্যবস্থা আর রাখার প্রয়োজন নেই বলে মত দেন একাডেমিক কাউন্সিল সদস্যরা।৭ জুন থেকে পুরোপুরি ক্লাস হবে ক্যাম্পাসেসভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদুল আজহার ছুটি শেষ হওয়ার পর ৭ জুন থেকে জবিতে আর কোনো অনলাইন ক্লাস থাকবে না।অর্থাৎ:
বৃহস্পতিবারের অনলাইন ক্লাস পুরোপুরি বন্ধ
সব ক্লাস সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে
অন্যান্য অনলাইন একাডেমিক কার্যক্রমও ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হবে
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মনে করছে, এতে শিক্ষার্থীদের সরাসরি ক্লাসরুমে উপস্থিতি বাড়বে এবং একাডেমিক পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।প্রশাসনের ব্যাখ্যা: কেন এই সিদ্ধান্ত?সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, অনলাইন ক্লাস ব্যবস্থা ছিল একটি “আপদকালীন সমাধান”। তখন পরিস্থিতি এমন ছিল যে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যেন ব্যাহত না হয়, সেটাই ছিল মূল লক্ষ্য।তিনি আরও জানান, এখন দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি উন্নতির দিকে থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষাব্যবস্থায় ফেরাই যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।একই সঙ্গে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান আরও উন্নত করতে এবং নিয়মিত কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে ভবিষ্যতে প্রতি মাসে অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।[TECHTARANGA-POST:1398] সভায় কারা উপস্থিত ছিলেন?একাডেমিক কাউন্সিলের এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।উপস্থিত ছিলেন:
ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন
বিভিন্ন অনুষদের ডিন
বিভাগীয় চেয়ারম্যানরা
ইনস্টিটিউট পরিচালকরা
রেজিস্ট্রার
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক
প্রক্টর
ছাত্রকল্যাণ পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা
সভায় নতুনভাবে মনোনীত তিনজন সদস্যকে অভিনন্দনও জানানো হয়।শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া: স্বস্তি নাকি চাপ?অনলাইন ক্লাস বন্ধের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিন অনলাইন ও অফলাইন মিশ্র ব্যবস্থায় পড়াশোনা কিছুটা বিভ্রান্তিকর হয়ে গিয়েছিল।বিশেষ করে:
ক্যাম্পাসে নিয়মিত না আসা শিক্ষার্থীদের জন্য আবার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হবে
দূরবর্তী এলাকায় থাকা কিছু শিক্ষার্থীর জন্য যাতায়াত চাপ বাড়তে পারে
তবে ক্লাসরুমে সরাসরি পড়াশোনার মান বাড়বে বলে অনেকে মনে করছেন
একজন শিক্ষার্থী বলেন, “অনলাইনে ক্লাস থাকায় মাঝে মাঝে সুবিধা হতো, কিন্তু অনেক সময় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন ছিল।”অন্যদিকে, আরেক শিক্ষার্থী জানান, “এটা ভালো সিদ্ধান্ত, কারণ বিশ্ববিদ্যালয় আসলে ক্যাম্পাসভিত্তিক শিক্ষার জায়গা।”সামাজিক প্রভাব ও বিশ্লেষণ: কেন এমন সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ?শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা-পরবর্তী সময় এবং জ্বালানি সংকটের মতো পরিস্থিতি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়কে অনলাইন-অফলাইন হাইব্রিড মডেলে যেতে বাধ্য করেছিল। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর আবার পূর্ণাঙ্গ সশরীরে ক্লাসে ফেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।এই সিদ্ধান্তের কয়েকটি সামাজিক প্রভাব রয়েছে:[TECHTARANGA-POST:1376]১. ক্লাসরুম সংস্কৃতি ফিরে আসাসরাসরি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যোগাযোগ বাড়লে আলোচনামূলক শিক্ষার সুযোগ বাড়ে, যা অনলাইন ক্লাসে অনেক সময় সীমিত থাকে। ২. শৃঙ্খলা ও নিয়মিত উপস্থিতিসশরীরে ক্লাস বাধ্যতামূলক হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও সময়ানুবর্তিতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। ৩. ডিজিটাল নির্ভরতা কমে যাওয়াদীর্ঘ সময় অনলাইন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমে আসবে, যা মানসিক ও সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।তবে বিশেষজ্ঞরা এটাও বলছেন, সম্পূর্ণ অনলাইন ব্যবস্থা বন্ধ না করে কিছু ডিজিটাল সাপোর্ট টুলস চালু রাখা দরকার, যাতে জরুরি সময়ে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। শেষ কথা
সব মিলিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং এটি একটি ধাপে ধাপে স্বাভাবিক একাডেমিক জীবনে ফেরার ইঙ্গিত। জ্বালানি সংকট মোকাবিলার পর এখন বিশ্ববিদ্যালয়টি আবারও পুরনো ছন্দে ফিরতে চাইছে।