দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, সর্বনিম্ন শলাকা ১৭ টাকা করার দাবি

দেশে ধূমপান কমানো এবং তামাকজনিত মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণে সিগারেটের দাম বড় পরিসরে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে তামাকবিরোধী দুটি সংগঠন। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি শলাকা সিগারেটের সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য ১৭ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। একই সঙ্গে আবগারি শুল্ক বৃদ্ধিরও সুপারিশ করা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে নতুন মূল্য কাঠামোর প্রস্তাবসোমবার (১১ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাব তুলে ধরে National Heart Foundation of Bangladesh এবং United Forum Against Tobacco।সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমান বাজারদর ও কর কাঠামো তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে সিগারেটকে আরও ব্যয়বহুল করার মাধ্যমে ধূমপান নিরুৎসাহিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:1223]সংবাদ সম্মেলনে সিগারেটকে চারটি আলাদা মূল্যস্তরে ভাগ করে নতুন মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।কোন স্তরে কত দাম প্রস্তাব করা হয়েছেপ্রস্তাব অনুযায়ী, প্রিমিয়াম স্তরের ১০ শলাকার প্রতি প্যাকেটের খুচরা মূল্য ২০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। এর সঙ্গে ৬৭ শতাংশ আবগারি শুল্ক এবং প্রতি প্যাকেটে নির্দিষ্ট ৪ টাকা কর আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। এই হিসাব অনুযায়ী প্রতি শলাকা সিগারেটের দাম দাঁড়াবে প্রায় ৩৫ টাকা।উচ্চ মূল্যস্তরের ক্ষেত্রে ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতি শলাকার দাম হবে প্রায় ২৫ টাকা ৪৫ পয়সা।এছাড়া মধ্যম ও নিম্ন স্তরের সিগারেটের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে ৮০ ও ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম বাড়িয়ে ১০০ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন স্তরের প্রতিটি সিগারেটের মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১৭ টাকা ১ পয়সা।ধূমপান কমাতেই জোরসংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, তামাক ব্যবহার দেশে হৃদরোগ, ফুসফুসের জটিলতা, স্ট্রোক ও ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।বিশেষজ্ঞদের মতে, সিগারেট সহজলভ্য থাকায় অনেক কিশোর ও তরুণ খুব কম বয়সেই ধূমপানে জড়িয়ে পড়ছে। দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেলে নতুন ধূমপায়ীর সংখ্যা কমে আসতে পারে।তাদের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণে কর বৃদ্ধি কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশেও একই কৌশল আরও শক্তভাবে প্রয়োগ করা প্রয়োজন।বাড়তে পারে সরকারের রাজস্ব আয়সংগঠন দুটির মতে, সিগারেটের ওপর উচ্চ হারে কর আরোপ করলে একদিকে যেমন ধূমপান কমবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে। বর্তমানে তামাক খাত থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেলেও স্বাস্থ্যখাতে তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায় আরও বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।তারা বলছেন, তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগেন। এর ফলে পরিবার ও রাষ্ট্র—দুই পর্যায়েই অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়।অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ মনে করেন, কর বাড়ানো হলে স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় এটি দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল দেবে।তরুণদের নিয়ে উদ্বেগস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মতে, দেশে তরুণদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা এখনও উদ্বেগজনক। অনেক সময় কম দামের সিগারেট সহজে পাওয়া যাওয়ায় শিক্ষার্থী ও নিম্ন আয়ের তরুণরাও সহজে ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়ছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাম বাড়লে তরুণদের একটি বড় অংশ সিগারেট কেনা থেকে বিরত থাকতে পারে। পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।তাদের মতে, শুধু কর বৃদ্ধি নয়—পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিয়ন্ত্রণ, তামাকের বিজ্ঞাপন বন্ধ এবং স্কুল-কলেজ পর্যায়ে সচেতনতা তৈরিও জরুরি।[TECHTARANGA-POST:1222]সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষাআগামী বাজেটকে সামনে রেখে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর এই প্রস্তাব নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সরকার শেষ পর্যন্ত কতটা কর বৃদ্ধি করবে বা মূল্য কাঠামোতে পরিবর্তন আনবে, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, ধূমপান কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে তামাকজনিত রোগ ও অকালমৃত্যুর হার কমানো সম্ভব হবে।

সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, সর্বনিম্ন শলাকা ১৭ টাকা করার দাবি