দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (১৯ নভেম্বর) ঢাকার মিরপুরে সামরিক বাহিনীর কমান্ড ও স্টাফ কলেজে আয়োজিত গ্র্যাজুয়েশন সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সামরিক বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি, যা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।“শান্তিপূর্ণ নির্বাচনই এখন প্রধান লক্ষ্য”অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং জনগণের অংশগ্রহণে একটি শান্তিপূর্ণ উৎসব হিসেবে দেখতে চায় সরকার।তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করে বলেন, নির্বাচনকালীন পরিবেশ যেন স্থিতিশীল ও নিরাপদ থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।বিশ্লেষকদের মতে, এ বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় সামরিক বাহিনীর সহায়তার বিষয়টি আরও একবার গুরুত্ব পেল।জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে প্রশংসাঅনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের সামরিক বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ওই সময় তারা “সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত” নিয়েছিল, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছে।এই মন্তব্যকে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ের একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।ডিএসসিএসসির সাফল্যের প্রশংসাঢাকার মিরপুরে সামরিক বাহিনীর কমান্ড ও স্টাফ কলেজে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ-এর প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সুনাম নিয়েও প্রশংসা করেন তিনি।তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠান শুধু দেশের নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও একটি সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করেছে।এবারের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ৫৮ জন অফিসারসহ মোট ৩১১ জন প্রশিক্ষণার্থী সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করেন।তরুণ অফিসারদের জন্য বার্তাঅনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা নতুন গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে বলেন, অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা যেন তারা দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজে লাগান।তিনি আশা প্রকাশ করেন, তরুণ অফিসাররা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ববিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে এমন বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।তাদের মতে, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সামরিক বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।উপসংহার ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সামরিক বাহিনীর সহযোগিতা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা