সোহরাওয়ার্দী কলেজ সাংবাদিক সমিতির ৫ম বর্ষে পদার্পণ: ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় নতুন অঙ্গীকার
ঢাকা: গৌরব, ঐতিহ্য আর ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার অগ্রযাত্রায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে সোহরাওয়ার্দী কলেজ সাংবাদিক সমিতি (সোকসাস)। বুধবার (১৩ মে) সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে ৫ম বর্ষে পদার্পণ করে। এ উপলক্ষে সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে আলোচনা সভা, কেক কাটা এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়।প্রতিষ্ঠার মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই সংগঠনটি কলেজ পর্যায়ে সাংবাদিকতা চর্চা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে একটি পরিচিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীদিনের শুরুতেই সোহরাওয়ার্দী কলেজ সাংবাদিক সমিতির নিজস্ব কার্যালয়ে ছোট পরিসরে আয়োজন করা হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কলেজ প্রশাসনের শিক্ষক ও সংগঠনের বর্তমান নেতৃত্বসহ শিক্ষার্থীরা।[TECHTARANGA-POST:1244]অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায়, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফরিদা ইয়াসমিন, অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন। পাশাপাশি সংগঠনের সভাপতি আমিরুল ইসলাম, সহসভাপতি লিখন হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবিদ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রহিমা বেগম স্মৃতি, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা অংশ নেন।শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়।“সাংবাদিকতা একটি মহান দায়িত্ব”—অধ্যক্ষের বার্তাঅনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায় বলেন, সাংবাদিকতা কেবল পেশা নয়, এটি একটি বড় দায়িত্ব। সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী যখন সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তার মধ্যে সত্য বলার সাহস, নেতৃত্বগুণ এবং দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে। সোকসাস গত চার বছরে যে অগ্রগতি দেখিয়েছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে।তবে তিনি একই সঙ্গে সতর্ক করেন, সাংবাদিকতার নামে যেন ভুল তথ্য বা হলুদ সাংবাদিকতা উৎসাহিত না হয়। তার ভাষায়, প্রকৃত সাংবাদিকতার লক্ষ্য হওয়া উচিত সত্য উদঘাটন, কাউকে অযথা হয়রানি করা নয়।“সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্ল্যাটফর্ম”—উপাধ্যক্ষকলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, একটি কলেজ পর্যায়ের সাংবাদিক সংগঠন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সোকসাস শুধু সংবাদ প্রকাশ করে না, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতেও কাজ করছে।তিনি আরও বলেন, সংগঠনটির ৫ম বর্ষে পদার্পণ তাদের জন্য গর্বের বিষয়। ভবিষ্যতে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে ঐক্য, নিষ্ঠা ও পরিশ্রম অপরিহার্য।সংগঠনের নেতৃত্বের প্রত্যয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসংগঠনের সভাপতি আমিরুল ইসলাম বলেন, এই দিনটি তাদের জন্য আনন্দের পাশাপাশি আবেগেরও। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যারা পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, সোকসাস সবসময় ক্যাম্পাসের সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরতে কাজ করছে।[TECHTARANGA-POST:1211]তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। তাই শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও নৈতিকতা গঠনে সংগঠনটি ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে।সহ-সভাপতি লিখন হোসেন বলেন, ৫ম বর্ষে পদার্পণ সংগঠনটির জন্য নতুন অনুপ্রেরণা। তারা ভবিষ্যতে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা গড়ে তুলতে চান।স্মৃতিচারণ, কেক কাটা ও আনন্দঘন মুহূর্তআলোচনা সভা শেষে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। পরে স্মৃতিচারণ, ফটোসেশন এবং একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে পুরো অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। দিনভর ক্যাম্পাসে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।সামাজিক প্রভাব ও বিশ্লেষণবিশ্লেষকদের মতে, দেশের কলেজ পর্যায়ের সাংবাদিক সংগঠনগুলো ভবিষ্যৎ মিডিয়া জগতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করছে। সোকসাসের মতো সংগঠন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংবাদ সচেতনতা, তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরি করছে।তবে একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ডিজিটাল যুগে দ্রুত তথ্য ছড়ানোর কারণে ভুল তথ্যের ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে এসব সংগঠনকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। বিশেষ করে ফ্যাক্ট-চেকিং, নৈতিক সাংবাদিকতা এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এখন সময়ের দাবি।সুশীল সমাজের মতে, এ ধরনের সংগঠন যদি নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও নৈতিক নির্দেশনার মধ্যে কাজ করে, তাহলে ভবিষ্যতে দেশের গণমাধ্যমে দক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিক তৈরি হবে।উপসংহার৫ম বর্ষে পদার্পণের মধ্য দিয়ে সোহরাওয়ার্দী কলেজ সাংবাদিক সমিতি তাদের পথচলার নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দের প্রত্যাশা—এই সংগঠন ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।[TECHTARANGA-POST:1216]
নিষ্ঠা, ঐক্য ও দায়িত্ববোধকে সঙ্গে নিয়ে সোকসাস যদি এগিয়ে যেতে পারে, তবে এটি শুধু কলেজ নয়, বৃহত্তর সাংবাদিকতা অঙ্গনেও একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে উঠবে।