দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

পদ্মার ভাঙনে ধসে পড়ল ৮ কোটি টাকার সেতু, দুর্ভোগে ২ হাজার মানুষ

ফরিদপুরে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৪০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু ধসে পড়েছে। নির্মাণের মাত্র ছয় বছরের মাথায় সেতুটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় ফরিদপুর ও মানিকগঞ্জের অন্তত দুই হাজার মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।সোমবার (১২ অক্টোবর) ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামে পদ্মার ভাঙনে সেতুটি ধসে পড়ে।স্থানীয় বাসিন্দা ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে সাত কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ছিল ৪০ মিটার এবং প্রস্থ ১২ ফুট।এলজিইডির উদ্যোগে নির্মিত সেতুটি ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কবিরপুর এলাকায় অবস্থিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পাশের মানিকগঞ্জ জেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষও সেতুটি ব্যবহার করতেন।কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে ওই এলাকায় পদ্মার তীব্র ভাঙন শুরু হয়। একপর্যায়ে সেতুর পূর্ব পাশের পাইলিংয়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় সেটি নদীতে ধসে পড়ে।সেতুটি ভেঙে পড়ায় দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত যোগাযোগপথ হারিয়েছেন দুই জেলার কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। ফলে দৈনন্দিন যাতায়াতসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে তাদের ভোগান্তি বেড়েছে।সেতুটি দিয়ে ফরিদপুরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের আজমত আলী মণ্ডলের ডাঙ্গী, মোনতাজ মাদবরের ডাঙ্গী ও আদর্শ গ্রামের মানুষ যাতায়াত করতেন।এ ছাড়া মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের সেলিমপুর, জয়পুর, নতুন হাট, গঙ্গাবর্দী, হরিহরদিয়া, পাটগ্রাম ও নটাখোলা গ্রামের বাসিন্দারাও সেতুটি ব্যবহার করতেন।সেতুটি ধসে পড়ায় এসব এলাকার অন্তত দুই হাজার মানুষ সরাসরি দুর্ভোগে পড়েছেন। বিকল্প পথে যাতায়াতের প্রয়োজন হলে তাদের অতিরিক্ত সময় ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হতে পারে।নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান বলেন, সেতুটির পূর্ব পাশের পাইলিংয়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় এটি নদীতে ধসে পড়ে। সেতুটি রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ওই এলাকায় বালুর বস্তা ফেলেছিল। তবে তাতে সেতুটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া জানান, সেতুটি রক্ষায় ১৫০ মিটার এলাকায় বালুর বস্তা ফেলা হয়েছিল। কিন্তু নদীভাঙন চলেছে অন্তত দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। ফলে সেতুটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।তিনি আরও জানান, বর্ষা মৌসুমে সেতুটি রক্ষায় শক্তিশালী উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি।ফরিদপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, ওই এলাকায় গত কয়েক মাস ধরে তীব্র নদীভাঙন চলছে। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে এমন ভাঙন দেখা যায়নি বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।এলাকাবাসীর ধারণা, নদী ভাঙতে ভাঙতে তার পুরোনো অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে। এতে এলাকার স্থাপনা ও যোগাযোগ অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন বলেন, সেতুটির দুই পাশে পদ্মা নদীর দুটি ধারা রয়েছে। উভয় ধারাতেই ভাঙন চলছে।তার ভাষ্য, চরাঞ্চলের মাঝখানে এলজিইডি সেতুটি নির্মাণ করেছিল। পদ্মার ভাঙনে নদী অন্তত ৫০০ মিটার ভেতরের দিকে চলে এসেছে। এ অবস্থায় ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।পানি কমে গেলে বিশেষজ্ঞ দল এনে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

পদ্মার ভাঙনে ধসে পড়ল ৮ কোটি টাকার সেতু, দুর্ভোগে ২ হাজার মানুষ