দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

সেনাবাহিনীর ৭ ইউনিটকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পেশাগত সাফল্য, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনিটগুলোকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৯টার দিকে সাভার সেনানিবাসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।প্রধানমন্ত্রী সেনানিবাসে পৌঁছালে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার দেয়। পরে উপস্থিত সেনাসদস্যদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করেন তিনি।এরপর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটের কাছে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।সম্মাননা পাওয়া ইউনিটগুলো হলো—৭ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন৫৬ ইস্ট বেঙ্গল৫৭ ইস্ট বেঙ্গলপ্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টঅনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়; এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারিত্ব এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।তিনি বলেন, জাতীয় পতাকার গৌরবময় উড্ডয়ন স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় পতাকা অর্জনের অর্থ হলো অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নতুন শপথ নেওয়া। পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম বা জনবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ ও জনগণের আস্থার মধ্যে। এ ক্ষেত্রে চেইন অব কমান্ডের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার ও আধুনিক হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান সরকারপ্রধান।বিশ্বের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের ধরন ও কৌশলও বদলে যাচ্ছে।স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা এখন জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সামগ্রী দেশেই উৎপাদনের জন্য দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।তবে প্রযুক্তি কখনো মানুষের বিকল্প নয় উল্লেখ করে তিনি এমন একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন, যেখানে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রয়োজনের মুহূর্তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে।প্রধানমন্ত্রীর সাভার সেনানিবাস সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়।এ সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

সেনাবাহিনীর ৭ ইউনিটকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান