দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনও আলাদা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। দুর্ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানি না ঘটলেও কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:1540]শুক্রবার সকালে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। তবে সৌভাগ্যজনকভাবে বাসটি ফেরিতে ওঠার আগেই যাত্রীদের নামিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ফলে সম্ভাব্য ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান বহু মানুষ।তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন চাইল মন্ত্রণালয়দুর্ঘটনার পর বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ রফিকুল করিমকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তাদের সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, সম্ভাব্য দায়দায়িত্ব এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা নির্ধারণের জন্য দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে।যাত্রী না থাকায় এড়ানো গেছে বড় বিপর্যয়ঘটনাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার সময় ভেতরে কোনো যাত্রী ছিলেন না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ফেরিতে ওঠার আগেই নৌ পুলিশের সদস্যরা যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেন।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটি যাত্রীসহ নদীতে পড়ে গেলে হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারত। বিশেষ করে ফেরিঘাট এলাকায় যানবাহনের চাপ এবং নদীর স্রোতের কারণে উদ্ধার অভিযান আরও জটিল হয়ে উঠতে পারত।[TECHTARANGA-POST:1510]দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। পরে নদী থেকে বাসটি উদ্ধার করা হয়। তবে বাসটি কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল বা কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।জেলা প্রশাসনের আলাদা তদন্তনৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনও ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।জেলা প্রশাসনের এই কমিটির কাজ হবে দুর্ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা এবং ঘটনার পেছনে কোনো অবহেলা, ত্রুটি বা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ছিল কি না, তা খুঁজে বের করা।দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনের ফলে ঘটনার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।ফেরিঘাটে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্নদৌলতদিয়া দেশের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ ও ফেরিঘাট। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এবং শত শত যানবাহন এই ঘাট ব্যবহার করে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।স্থানীয়দের দাবি, ফেরিতে যানবাহন ওঠানামার সময় আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অনেক সময় যানজট, তাড়াহুড়া কিংবা সমন্বয়হীনতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। যদিও এ ঘটনার ক্ষেত্রে ঠিক কী কারণে বাসটি নদীতে পড়ে গেছে, তা তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।[TECHTARANGA-POST:1458]বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ফেরিঘাটগুলোতে যানবাহন চলাচলের সময় নিয়মিত নিরাপত্তা মহড়া, আধুনিক নির্দেশনা ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষিত কর্মী নিশ্চিত করা গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।কেন গুরুত্বপূর্ণ এই তদন্ত?বাংলাদেশের নৌ ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম সংযোগস্থল দৌলতদিয়া ঘাট। এখানে ঘটে যাওয়া যেকোনো দুর্ঘটনা শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় পর্যায়েও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ এই রুটে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন।দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন হলে শুধু দায়দায়িত্ব নির্ধারণই নয়, ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঠেকানোর পথও পরিষ্কার হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষ।কারণ এই প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি—যাত্রীদের নামিয়ে নেওয়ার পরও যদি একটি বাস নদীতে পড়ে যায়, তাহলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো কীভাবে, আর ভবিষ্যতে তা রোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে?

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি