দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

আমিরাতে নেতানিয়াহুর ছয় ঘণ্টার গোপন সফর, আলোচনায় ইরান

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক গোপন সফর স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ছয় ঘণ্টা। সফরে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের সঙ্গে তার আলোচনায় প্রধান বিষয় ছিল ইরান—এমনটাই জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুসালেম পোস্ট।একাধিক সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, বৈঠকের আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই নেতার মধ্যে একাধিকবার ফোনে কথা হয়। আসন্ন নির্বাচনের আগে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের জন্য নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে ব্যাপক চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আমিরাতের কর্মকর্তাদের বরাতে দ্য জেরুসালেম পোস্ট জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে বৈঠকের আয়োজনের চাপ ছিল ‘অস্বাভাবিক রকমের তীব্র’।ঘন ঘন ফোনকলের পাশাপাশি নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা সহযোগিতার নানা ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে সফর নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।এর কয়েক দিন আগে নেতানিয়াহুর আমিরাত সফরের একটি প্রাথমিক তারিখও নির্ধারিত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সফরটি গোপন রাখার পরিকল্পনা ছিল এবং নেতানিয়াহু আমিরাত ছাড়ার পর তা প্রকাশ করার কথা ছিল।ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মারিভ-কে একটি সূত্র জানায়, সফরের জন্য ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল প্রস্তুত ছিল এবং প্রয়োজনীয় সব আয়োজনও সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু উড়োজাহাজ ছাড়ার ঠিক আগে সফর বাতিলের নির্দেশ আসে।ওই সূত্রের দাবি, আমিরাত কর্তৃপক্ষ শেষ মুহূর্তে জানায়, মোহাম্মদ বিন জায়েদ দেশে নেই। তবে পরে অনুসন্ধানে দেখা যায়, তিনি সে সময় আবুধাবিতেই অবস্থান করছিলেন।নেতানিয়াহুর আমিরাত সফরের পেছনে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আগের একটি সতর্কবার্তাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে আগে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, হামাসের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা অস্বীকার করতেও নেতানিয়াহু তাকে অনুরোধ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।মারিভ-এর সঙ্গে কথা বলা এক সূত্রের ভাষ্য, মোহাম্মদ বিন জায়েদ কোনোভাবেই নেতানিয়াহুর নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হতে চান না। এ ছাড়া দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কও সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা শীতল ছিল বলে সূত্রটি দাবি করেছে।শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর সফর অনুষ্ঠিত হয় এবং ছয় ঘণ্টা পর তিনি আমিরাত ত্যাগ করেন। সফরে দুই নেতার আলোচনায় ইরানই প্রধান বিষয় ছিল বলে দ্য জেরুসালেম পোস্ট-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর এই আকস্মিক সফর এবং আমিরাতের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয়ে সিদ্ধান্ত বা সমঝোতা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

আমিরাতে নেতানিয়াহুর ছয় ঘণ্টার গোপন সফর, আলোচনায় ইরান