জাতীয় নির্বাচনের তফসিল নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান ইসি সচিবের
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে তফসিল ঘোষণা ও ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে যখন বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে, তখন এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্পষ্টভাবে বলেছেন, নির্বাচনের তফসিল নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে বিভিন্ন মাধ্যমে যে তারিখগুলো প্রচার হচ্ছে, সেগুলো নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়।শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তার বক্তব্যের পর নির্বাচনকে ঘিরে চলমান জল্পনা-কল্পনার মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।‘নিজ দায়িত্বে তারিখ বলছেন অনেকে’ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, তফসিল ঘোষণার বিষয়ে কমিশন এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। কেউ যদি নির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করেন, তাহলে তা তাদের নিজস্ব হিসাব-নিকাশ বা ব্যক্তিগত মূল্যায়নের ভিত্তিতে বলা হচ্ছে।তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো সম্ভাব্য তারিখকে চূড়ান্ত হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।[TECHTARANGA-POST:1520]তার মতে, নির্বাচন একটি সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া। তাই এ বিষয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রচার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।গণমাধ্যমের প্রতি দায়িত্বশীলতার আহ্বানদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে ইসি সচিব গণমাধ্যমের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।তিনি বলেন, নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সূত্র ও কমিশনের আনুষ্ঠানিক অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য অযথা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুজব বা অনুমানভিত্তিক তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করাই সবচেয়ে যৌক্তিক।তফসিল নিয়ে কেন আলোচনা?সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে নানা আলোচনা দেখা যাচ্ছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। আবার কোথাও কোথাও ফেব্রুয়ারিতে ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখও উল্লেখ করা হয়েছে।তবে নির্বাচন কমিশন এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। বরং কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, তফসিল সংক্রান্ত বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে।রোববার বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনানির্বাচনের তফসিল সংক্রান্ত বিষয়ে আগামী রোববার নির্বাচন কমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ওই বৈঠকে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি, সম্ভাব্য সময়সূচি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।যদিও বৈঠকের আগে কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি, তবুও রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের নজর এখন ওই বৈঠকের দিকেই।রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্যোগএদিকে তফসিল ঘোষণার বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।জানা গেছে, কমিশন আগামী ১০ অথবা ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি আগামী ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টায় সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এই বৈঠক নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।সব মিলিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক ও জনমনে আগ্রহ বাড়লেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তাই তফসিল ও ভোটের তারিখ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগ পর্যন্ত সব ধরনের অনুমান ও গুঞ্জনের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।