নরসিংদীর রায়পুরায় তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা, আতঙ্কে এলাকাবাসী
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পিরিজকান্দি রেলগেট এলাকায় গভীর রাতে এক তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একটি মুরগির খামারের ভেতর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন ইয়াসমিন ওরফে সুমন। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পিরিজকান্দি রেলগেট এলাকার একটি মুরগির খামারে এই ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়াসমিন ওরফে সুমনের বয়স ছিল ২৬ বছর। তিনি পিরিজকান্দি গ্রামের রবিউল্লাহর সন্তান। আহত চাঁদনী ওরফে বাবু একই এলাকার মিষ্টু মিয়ার সন্তান।ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বলছেন, রাতের নীরবতায় হঠাৎ চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এলে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।[TECHTARANGA-POST:1496]খামারের ভেতরে রক্তাক্ত দৃশ্যস্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল ছিল একটি মুরগির খামারের ভেতর। সেখানে কী কারণে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে নিহতের শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।আহত চাঁদনী ওরফে বাবুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন পূর্ব শত্রুতা, আবার কেউ ব্যক্তিগত বিরোধের কথা উল্লেখ করছেন। যদিও এসব দাবির সত্যতা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।পুলিশ যা বলছেআজ সোমবার রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।ওসি বলেন, “নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।”তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বিভিন্ন দিক মাথায় রেখে তদন্ত চলছে।তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্নএই হত্যাকাণ্ডের পর আবারও সামনে এসেছে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি। সমাজের মূলধারায় নিজেদের জায়গা তৈরি করতে গিয়ে এখনো নানা ধরনের বৈষম্য, কটূক্তি ও সহিংসতার মুখোমুখি হতে হয় তাদের অনেককেই।মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অনেক ঘটনা প্রকাশই পায় না। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক সংকোচ কিংবা নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরিবারও প্রকাশ্যে কথা বলতে চায় না।বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইনি স্বীকৃতি দিলেই হবে না, সামাজিক সচেতনতা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। নইলে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতেই থাকবে।[TECHTARANGA-POST:1490]শোক ও আতঙ্কে স্বজনরানিহতের পরিবার এখন শোকে স্তব্ধ। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। স্থানীয়দের ভাষ্য, ইয়াসমিন ওরফে সুমন পরিচিত মুখ ছিলেন এবং এলাকাতেই বসবাস করতেন।একজন প্রতিবেশী বলেন, “রাতে এমন ঘটনা শুনে আমরা হতবাক। কে বা কারা এমন নৃশংস কাজ করলো, সেটার বিচার হওয়া উচিত।”ঘটনার পর থেকে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যেও এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে।
এদিকে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে আশা করছে পুলিশ।