দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

পুরান ঢাকায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে বর্ণাঢ্য ইফতার মাহফিল ও নবীনবরণ, শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা

রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে এক ভিন্নমাত্রার সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ইফতার মাহফিল, নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। পবিত্র রমজানের আবহে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে পুরো ক্যাম্পাসে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।UECASSC-এর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনUnited Ex-Cadets' Association of S.S. College (UECASSC)–এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি শিক্ষকবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রমের সূচনা করা হয়, যা পুরো আয়োজনকে ধর্মীয় ও শান্তিপূর্ণ আবহে রূপ দেয়।সৌহার্দ্য, ঐক্য ও শিক্ষার বার্তাআয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা। একইসঙ্গে নবীনদের অনুপ্রাণিত করা এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের অবদানকে সম্মান জানানো।তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু পাঠদানের জায়গা নয়, বরং এটি মানবিকতা, নেতৃত্ব এবং নৈতিক মূল্যবোধ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলে।নবীনদের বরণ, বিদায়ীদের সম্মাননাঅনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। নবীনরা এমন আন্তরিক আয়োজনে অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বাস ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।এরপর বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। আয়োজকরা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কর্মজীবনে সফলতা কামনা করেন এবং কলেজের সুনাম ধরে রাখার আহ্বান জানান।রমজানের শিক্ষা নিয়ে আলোচনাবক্তারা রমজানের শিক্ষা—সংযম, আত্মশুদ্ধি ও মানবিকতা—ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, রমজান শুধু উপবাসের মাস নয়; এটি আত্মগঠনের এক অনন্য সুযোগ।একজন বক্তা বলেন, “শিক্ষার্থীদের জীবনে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা গড়ে তুলতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”দোয়া ও ইফতারে সম্প্রীতির আবহইফতারের আগে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে অংশ নেন, যা পুরো পরিবেশকে আরও আবেগঘন করে তোলে।ইফতারের পর অতিথি ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কুশল বিনিময় হয়। দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়া প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে ওঠে আন্তরিক আড্ডা ও স্মৃতিচারণ।শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক প্রভাবশিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের সামাজিক দক্ষতা ও সাংগঠনিক চেতনা বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি ক্যাম্পাস জীবনে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে, যা শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশেও ভূমিকা রাখে।একজন শিক্ষক বলেন, “এ ধরনের অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের শুধু আনন্দ দেয় না, বরং তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও সম্পর্কের গুরুত্বও শেখায়।”ভবিষ্যৎ আয়োজনের ঘোষণাআয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে এমন কার্যক্রম নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।উপসংহারসব মিলিয়ে, পুরান ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে আয়োজিত এই ইফতার মাহফিল ও নবীনবরণ অনুষ্ঠান কেবল একটি সামাজিক আয়োজন নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্য, সৌহার্দ্য ও মানবিকতার এক সুন্দর উদাহরণ হয়ে উঠেছে। রমজানের পবিত্র আবহে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন ক্যাম্পাসজুড়ে রেখে গেছে সম্প্রীতি ও বন্ধনের এক উজ্জ্বল বার্তা।

পুরান ঢাকায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে বর্ণাঢ্য ইফতার মাহফিল ও নবীনবরণ, শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা