নওগাঁর মান্দায় জমি বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, আটক ৪
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিরোধপূর্ণ জমিতে হালচাষকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে মারধরের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আব্দুল হামিদ (৬৫) নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।রোববার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের ছুটিপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল হামিদ ওই গ্রামের মৃত মেহের আলী শাহের ছেলে।বিরোধপূর্ণ জমিকে ঘিরেই উত্তেজনাস্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শরিকান সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল হামিদের সঙ্গে প্রতিবেশী হায়দার আলী শাহের বিরোধ চলছিল। বিষয়টি আদালতেও বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।রোববার সকালে কয়েকজন ব্যক্তি বিরোধপূর্ণ জমিতে হালচাষ করতে গেলে আব্দুল হামিদ সেখানে উপস্থিত হয়ে আপত্তি জানান। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।স্বজনদের অভিযোগ, একপর্যায়ে তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।[TECHTARANGA-POST:1587]প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি কী?স্থানীয় বাসিন্দা উজ্জ্বল হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন জমিতে হালচাষ শুরু হলে আব্দুল হামিদ বাধা দেন। এরপর কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত পুলিশকে খবর দেন।পুলিশের তাৎক্ষণিক অভিযানঘটনার সংবাদ পেয়ে মান্দা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হায়দার আলী শাহ (৬২), আপেল মাহমুদ (২৫), আলেফা বিবি (৫০) এবং আব্দুল মতিনকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ।তদন্তের পর মিলবে প্রকৃত তথ্যমান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।তিনি জানান, “ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”গ্রামাঞ্চলে জমি বিরোধ কেন বাড়ছে?স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গ্রামাঞ্চলে জমির মালিকানা, ভোগদখল এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিরোধ প্রায়ই বড় ধরনের সংঘাতের জন্ম দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন আদালতে মামলা চলমান থাকলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে।সামাজিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর মধ্যস্থতা ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে এমন সহিংস ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।বর্তমানে ছুটিপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।