দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

পোরশায় সরকারি চাল বিক্রির অভিযোগে অভিযান, জব্দ কয়েক মন চাল; দুইজনকে জরিমানা

নওগাঁর পোরশা উপজেলায় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে কয়েক মন সরকারি চাল জব্দ করা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। পরে জব্দ করা চাল অসহায় ও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন থেকে সংগ্রহ করা সরকারি চাল একটি চক্রের মাধ্যমে গোপনে বাজারে বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল বলে অভিযোগ ওঠে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসন দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে এবং ঘটনাস্থল থেকে চাল জব্দ করে।[TECHTARANGA-POST:1305]নিতপুর এলাকায় অভিযানে হাতেনাতে জব্দ চালঅভিযানে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— মোঃ রেজাউল (৩৪), পিতা মৃত আঃ আজিজ এবং মোঃ মাইনুল (৩৫), পিতা মৃত সাফিজ উদ্দিন। তাদের বাড়ি নওগাঁ জেলার পোরশা উপজেলার সুতরইল গ্রামে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিতপুর এলাকার কপালির মোড়ে সরকারি চাল বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় কয়েক মন সরকারি চাল জব্দ করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই দুইজনকে আটক করা হয়।পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোছাঃ নাবিলা আক্তার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারি খাদ্য সহায়তা যেন কোনোভাবেই কালোবাজারে না যায়, সে বিষয়ে তারা নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানাঅভিযানের পর ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুত ও বিক্রির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আইনের ০৬ ধারা অনুযায়ী দুই ব্যক্তিকে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি সহায়তার খাদ্যসামগ্রী নির্ধারিত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছানোর কথা থাকলেও অসাধু কিছু ব্যক্তি তা বিক্রির চেষ্টা করছে বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অনিয়ম ঠেকাতে প্রশাসনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।জব্দ চাল বিতরণের নির্দেশঅভিযানের পর একটি মানবিক সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন। জব্দ করা সরকারি চাল প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়ার পাশাপাশি তা যাতে প্রকৃত দরিদ্র মানুষের কাজে আসে, সে জন্য তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোছাঃ নাবিলা আক্তার ইউনিয়নের অসহায়, দুস্থ ও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের মাঝে জব্দ করা চাল বিতরণের নির্দেশ দেন। স্থানীয় অনেকেই প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন বলেন, সরকারি চালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা যদি বাজারে বিক্রি হয়ে যায়, তাহলে প্রকৃত দরিদ্র মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। তারা মনে করেন, প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান থাকলে এমন অনিয়ম অনেকটাই কমে আসবে।স্থানীয়দের অভিযোগ ও উদ্বেগএলাকাবাসীর অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল সংগ্রহ করে গোপনে বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে। ফলে যাদের জন্য এসব বরাদ্দ দেওয়া হয়, তারা অনেক সময় পূর্ণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।স্থানীয়দের ভাষ্য, নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সরকারি চালের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে দরিদ্র মানুষের জন্য এই সহায়তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি খাদ্যসামগ্রী নিয়ে অনিয়ম সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করছে।তারা প্রশাসনের কাছে আরও কঠোর নজরদারি, নিয়মিত তদারকি এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাঅভিযান চলাকালে তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের সদস্য মোঃ আমিনুর রহমান, নিতপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কয়েকজন বলেন, সরকারি সহায়তা বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে আরও সতর্কতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে, যাতে কোনো চক্র সুযোগ নিতে না পারে।সামাজিক প্রভাব ও প্রশাসনের বার্তাবিশ্লেষকদের মতে, সরকারি খাদ্য সহায়তা নিয়ে অনিয়মের ঘটনা শুধু আইনগত সমস্যা নয়, এটি সামাজিক বৈষম্যও বাড়িয়ে তোলে। দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ খাদ্য যদি কালোবাজারে চলে যায়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হন সেই মানুষগুলো, যারা সবচেয়ে বেশি সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করেন।[TECHTARANGA-POST:1306]এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি সহায়তা ব্যবস্থার প্রতি আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই শুধু অভিযান নয়, বরাদ্দ থেকে বিতরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুত, বিক্রি কিংবা পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি প্রকৃত সুবিধাভোগীদের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও জানানো হয়।

পোরশায় সরকারি চাল বিক্রির অভিযোগে অভিযান, জব্দ কয়েক মন চাল; দুইজনকে জরিমানা